গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেইলি স্টার এবং দৈনিক ইত্তেফাকে ইউনূস সেন্টারের বিবৃতির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ইউনূস সেন্টারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জুলাই গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য ও উচ্চ পর্যায়ের দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনাকালে প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কিছু মন্তব্য করেছেন। ইউনূস সেন্টারের বিবৃতিতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংবাদকে সূত্র হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১১ জুলাই লন্ডন ও বেলারুশ সফর শেষে দেশে ফিরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন মন্ত্রী, সাংসদ এবং দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় মিলিত হয়েছিলেন। একান্ত ঘরোয়া এ আলোচনার সময় প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কোন প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ১২ জুলাই ২০১৩ তারিখে প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদটি কোন সূত্র উল্লেখ না করে এবং অপর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
ইউনূস সেন্টারের প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেনি, সেহেতু তার বক্তব্যকে সিরিয়াসলি নিতে হবে। বস্তুতপক্ষে, গত ১১ জুলাই গণভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনা যেহেতু ঘরোয়া ছিল, সেখানে আলোচিত বিষয়ের উপর অনুমান নির্ভর অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় মনে করেনি। বরং ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তার দলের কয়েকজন নেতার সাথে যে ঘরোয়া আলোচনা করেছেন তা সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে কোন সূত্রের উল্লেখ না করে এবং কোন মুখপাত্রের বরাত ছাড়াই। এ ধরনের অসমর্থিত সংবাদ পরিবেশনা সাংবাদিকতার নীতিমালা বিরোধী এবং উদ্দেশ্যমূলক ও অনভিপ্রেত। প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক অপ্রচার সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠতার বরখেলাপ এবং অপব্যবহার, যা কারো কাম্য নয়।
ইউনূস সেন্টার হতে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে যে, সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার ফলে দুটি বন্ধু দেশ নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আশংকাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ বন্ধুত্বপূর্ণ কোন দেশের সাথে সুসম্পর্ক বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অসমর্থিত সূত্রের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে হয় না। দেশ দুটির সাথে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এত ঠুনকো নয় যে, পত্রিকায় প্রকাশিত কোন ভিত্তিহীন সংবাদে তা নষ্ট হবে। নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ইউনূস সেন্টারের এ ধরনের অভিযোগ মূলত বাংলাদেশের সাথে বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের সুসম্পর্ক বিনষ্ট করার অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। এছাড়াও প্রফেসর ইউনূসকে ভণ্ড প্রমাণ করার পেছনে সরকারের মেধা ও অর্থ ব্যয়ের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনূসকে হেয় করার কোন ইচ্ছাই এই সরকারের নেই। বরং ইউনূস সেন্টারই অপপ্রচার করে সরকার ও প্রফেসর ইউনূসকে বিতর্কিত ও হেয়-প্রতিপন্ন করেছে। অসমর্থিত ও একটি সংবাদের ভিত্তিতে সরকার প্রধানকে জনসমক্ষে হেয় করার ইউনূস সেন্টারের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে সরকার। এই প্রেক্ষিতে সরকার আশা করে ইউনূস সেন্টার দৈনিক ইত্তেফাক ও ডেইলি স্টারে প্রকাশিত বিবৃতিটি প্রত্যাহার করে নেবে এবং এইরূপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকবে। অন্যথায় সরকার ইউনূস সেন্টারের এই ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
