দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন পাটের বাজার চাঙ্গা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩৩
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে, বাজার চাঙ্গা। কোন কোন মোকামে পাটের মণ (৪০ কেজি) ১৫শ’ টাকা থেকে ১৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব এলাকার চাষিগণ খুশি। আবার কোন কোন এলাকায় প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১১শ’ টাকা দরে। এ এলাকার চাষিরা খুশি নন। দিন পনের আগে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাটের পুরা মৌসুম শুরু হয়ে যাবে বলে চাষিরা জানান। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার যশোর জেলায় ২৫ হাজার ১শ’ ৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ২০ হাজার ৫ হেক্টরে, নড়াইল জেলায় ২২ হাজার ৬শ’ ১০ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৩০ হাজার ৫শ’ ৫০ হেক্টরে, খুলনা জেলায় ২৩শ’ ৪৫ হেক্টরে, বাগেরহাট জেলায় ১৪শ’ ১৫ হেক্টরে, সাতক্ষীরা জেলায় ১০ হাজার ৮শ’ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ৩৪ হাজার ৮শ’ ৭০ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০ হাজার ১শ’ ৪০ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ২৩ হাজার ৪০ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার পাটের মান ভালো হয়। এ পাট পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার মতো। এ এলাকার উত্কৃষ্ঠমানের পাটকে বলা হয় ’ডিস্টিক’ পাট। সব সময় এ পাটের দাম মণ প্রতি ২/৩শ’ টাকা বেশি থাকে। ১৪ জুলাই লাঙ্গলবাঁধ হাটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাটের আমদানি বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ওইদিন এ হাটে ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ মণ পাট উঠে। ব্যবসায়ী ও চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মণ নিচে ১৫শ’ টাকা থেকে উপরে ১৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জোকা গ্রামের চাষি মকরম মোল্লা জানান, এবার ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। ২৮ শতক জমির পাট কেটেছেন। ৩ মণ পাট ১৭শ’ ৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, এবার পাটের ফলন কম হচ্ছে। তার আশংকা বাজারে পাটের আমদানি বাড়লে অন্যান্য বছরের মতো দরপতন হবে। শ্রীপুরের চতুরিয়া গ্রামের চাষি রজব আলী জানান, ১৮শ’ ৫ টাকা মণদরে পাট বিক্রি করেছেন। তিনিও বলেন, এবার পাটের ফলন কম হচ্ছে। পাট ব্যবসায়ী প্রাণবল্লভ কুণ্ডু বলেন, ফলন কম হওয়ার কারণে এবার পাটের দাম চড়া যাবে। তিনি জানান, নতুন উঠা পাট ফরিদপুর জেলায় গড়ে উঠা ছোট ছোট জুট মিলগুলো কিনছে। মাগুরা সদর, গাংনালিয়া, শ্রীপুর, দারিয়াপুর, বিনোদপুর, শত্রুজিত্পুর, মহম্মদপুর, শালিখা, শৈলকুপা, হাটফাজিলপুর, খোকসা ও গণেশপুর মোকামে নতুন উঠা পাট প্রতি মণ ১৫শ’ টাকা থেকে ১৭শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মিরপুর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, মেহেরপুরের বামুনদী, গাংনী ও মেহেরপুর মোকামে নতুন উঠা পাটের দাম কম। প্রতি মণ এক হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উজলপুর গ্রামের চাষি বাবলু মিয়া বলেন, তাদের এলাকায় সবে পাট উঠতে শুরু করেছে। প্রতি মণ ১০৫০ টাকা থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ অঞ্চলের পাটের মান খারাপ হয়ে থাকে। গত বছর এ সময় নিচে ১৪শ’ টাকা থেকে উপরে ২২শ’ টাকা মণদরে পাট বিক্রি হয়েছিল। এরপর আমদানি বাড়লে দরপতন শুরু হয়। নিম্নমানের পাটের দাম প্রতি মণ ৬শ’ টাকায় নেমে এসেছিল। আর ভালোমানের পাট ১২/ ১৩শ’ টাকা মণদরে বিক্রি হয়। চাষির ঘরের পাটের মজুত ফুরিয়ে গেলে দাম চড়েছিল। কিন্তু চাষি সে দাম পায় না। এরপরও পাটের বাজার উঠা-নামা করে। পাটচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার এক বিঘা জমি চাষ, পাট বোনা ও নিড়ানি বাবদ ২ হাজার টাকা লেগেছে। সেচ লাগলে আরো হাজার টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। বিঘা প্রতি পাট কাটতে কামলারা নিচ্ছে ১২শ’ টাকা, ক্ষেত থেকে কাটা পাট নদী বা দূরবর্তী জলাশয়ে নিতে ঘোড়ার গাড়ি বা আলম সাধু ভাড়া লাগছে ২ হাজার টাকা। ধুতে লাগছে এক হাজার টাকা। পুকুর ভাড়া নিয়ে জাগ দিলে অতিরিক্ত আরো ৫/৭শ’ টাকা লাগছে। প্রতি মণ দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে চাষির লাভ থাকবে। তার কম হলে লাভ হবে না বলে চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়। এ অঞ্চলে পাটের প্রধান মোকাম খুলনার দৌলতপুর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ মোকামে নতুন পাট কেনাবেচা শুরু হয়নি।