কথায় আছে মানুষ না খেয়ে অসুস্থ হয় না, অসুস্থ হয় খেয়ে। ধর্মভীরু অনেক ইমানদার ব্যক্তি পবিত্র রমযান মাসে সিয়াম সাধনা করেন আল্লাহর সন্তষ্টির উদ্দেশ্যে। রোজা স্বাস্থ্যের জন্য
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে। রোজা রাখলে যেমন ইবাদত পালন করা হয় তেমনি শরীরকেও সুস্থ রাখা সহজ হয়।
রোজার সুফলসমূহ
১. রোজা রাখলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যখন কোন ব্যক্তি স্বাভাবিক খাদ্য তালিকা অনুসরণ করে রোজা রাখে, তখন শরীর থেকে বিষাক্ত ও চর্বি জাতীয় পদার্থের অপসারণ ঘটে এবং একই সাথে প্রাকৃতিক ফলমূল গ্রহণ করার ফলে তা শরীরের ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
২. রোজা রাখলে পরিপাকতন্ত্রের বিশ্রাম হয়। ফলে পরিপাক প্রক্রিয়ায় পাচক রস ধীরে ধীরে নি:সৃত হয় যা শরীরে ফ্লুইড বা তরলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যদিও এর ফলে পাকস্থলীতে এসিড নি:সরণ বন্ধ হয় না। তাই পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীদের সতর্কতার সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখা উচিত।
৩. রোজা রাকায় প্রদাহের প্রকোপ ও এলার্জির প্রভাব প্রশমিত হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, রিউমেটয়েড আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াসিস এমনকি অন্ত্রের প্রদাহে রোজা রাখার ফলে রোগ প্রশমন তরান্বিত হয়েছে।
৪. রক্তে চিনির পরিমাণ কমে। কারণ, রোজা রাখলে শরীরে গ্লুকোজ ভেঙ্গে শক্তির যোগান দেয়। এটা ইনসুলনের উত্পাদন কমায়। ফলে, অগ্নশয় বিশ্রাম পায়। আর গ্লুকোজ ভাঙ্গার জন্য সাহায্য করতে গ্লুকাগণ তৈরী হয় যা রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধ সেবন ও ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করে রোজা রাখা উচিত।
৫. রোজা রাখলে দেহে সঞ্চিত অতিরিক্ত চর্বি, কিটোসিস প্রক্রিয়ায় উত্পাদনের ক্ষেত্রে ব্যয় হয় যা কিডনি ও পেশীতে জমানো চর্বিকে ব্যবহার করে।
৬. রোজা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি জমার সম্ভাবনা কমে যায় একই সাথে বিপাক প্রক্রিয়ার হার কমে যায়। এড্রেনালিন ও নর-এড্রেনালিন হরমোনের পরিমাণও কমে যাওয়ায় তা পািক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৭. ওবেজ বা মোটা ব্যক্তিদের জন্য রোজা রাখার ফলে দেহের অতিরিক্ত ওজন অনেক ক্ষেত্রেই হ্রাস পাওয়ার সুযোগ সুষ্টি হয়। যদিও পরিমিত খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়ামই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে।
৮. রোজা রাখার মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। অতিরিক্ত তেল ও চর্বি জাতীয় খাবর পরিহার করে তরল ও প্রাকৃতিক ফলমূল গ্রহণের মাধ্যমে একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা অনুসরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৯. রোজা রাখার ফলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ নিষ্কাষিত হয়। পাচিত খাদ্য থেকে যে সকল ক্ষতিকর খাদ্যাংশ আমাদের শরীরে চর্বি আকারে জমা হয়ে লিভার, কিডনি কিংবা অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতি সাধন করতে পারত, তা রোজা রাখার ফলে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
১০. সিয়াম সাধনা বদভ্যাস দূরীকরণেও সাহায্য করে। নিয়মিত রোজা রাখার অভ্যাসের ফলে মদ, জুয়া, তামাক ও মাদক জাতীয় নেশার আসক্তি থেকে রোজাদারকে দূরে সরিয়ে রাখে যা রোজাদরকে সুন্দর জীবনের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
