ঈদ সামনে রেখে ভৈরবে ৮৫ হাজার পাদুকা শ্রমিক দারুণ ব্যস্ত

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২১:১০
বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কর্মমুখর এখন ভৈরবের জুতার কারখানাগুলো। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এলাকার প্রায় ৮৫ হাজার জুতা শিল্প শ্রমিক। ঈদ সামনে রেখে এ অঞ্চলের প্রায় ৭ হাজার জুতা কারখানায় চলছে বিরামহীন উত্পাদন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের ভিড় উপচে পড়ছে স্থানীয় জুতার পাইকারি দোকানগুলোতে। নিত্য-নতুন ফ্যাশনের মানসম্মত ও টেকসই জুতা তৈরি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন ভৈরবের পাদুকা সমাদৃত। এছাড়া এ শিল্পকে ঘিরে পাদুকার অন্যতম উত্পাদন বক্স তৈরির কারখানাও গড়ে উঠেছে শতাধিক। সেখানেও কাজ করছে দুই-তিন হাজার শ্রমিক। এসব কারখানাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ৪০-৫০টি ছোট-বড় পাদুকা মার্কেট। ফলে সেখানে প্রায় তিন থেকে চারশ ম্যাটেরিয়ালের দোকান রয়েছে। একটি পাদুকা কারখানায় নানান কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শ্রমিক প্রয়োজন হয়। যেমন ডিজাইন, সেলাই, কাটিং, সোল তৈরি, পেস্ট করা, রঙ করা, সলিউশন করা, আপার তৈরি, ফিতায় বেণি করা ইত্যাদি। পাদুকা কারখানার একজন দক্ষ পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৪০০ থেকে ৬০০ এবং একজন দক্ষ মহিলা শ্রমিক ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা উপার্জন করলেও ঈদের সময় তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাই মৌসুমে এতটুকুও সময় নষ্ট করার ফুরসত নেই যেন তাদের। স্বল্প পুঁজিতে এ শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব বলেই অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরা এ শিল্প গড়ে তুলেছেন। অন্যদিকে পুঁজি স্বল্পতার কারণে মৌসুমে কারখানা মালিকরা বিভিন্ন ব্যক্তি বা উচ্চ সুদ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই লাভের একটি অংশ এই সুবিধাভোগীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান এখানে অর্থ লগ্নিতে এগিয়ে এলে অবাধ পুঁজি এ শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মালিকদের ধারণা।