চিতলমারীতে শামুক এখন অর্থকরী ফসল

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২১:১১
চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাটে শামুকের বহুবিধ ব্যবহার বাড়ছে। শামুকের মাংস মাছের ঘেরে, খোলস মাছ ও মুরগির খাবার ও চুন তৈরি হচ্ছে। অত্র এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার পরিবার চার মাস তাদের সংসারের যাবতীয় ব্যয় শামুকের উপার্জন থেকে নির্বাহ করছে। প্রতি বস্তা শামুকের মাংস ৫শ’ টাকা এবং খোলস বিক্রি হচ্ছে প্রতি বস্তা ১৫০ টাকা দরে। স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি ট্রাক শামুকের মাংস ও খোলস নিতে আসে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। ঘের মালিকরা জানান, বরিশালের মাদারীপুর, কালকিনি, গৌরনদী ও গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট ও মোল্লাহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা শামুক নিয়ে আসলে ঘেরের মালিকরা তা সংগ্রহ করে। এ তিন উপজেলায় ৪২ হাজার ৩শ’ বাগদা-গলদা ও মিশ্র চাষের ঘের রয়েছে। চিতলমারীর ভেন্নাবাড়ী গ্রামের মাছ চাষী মানিক মন্ডল জানান, ঘেরে মাছ চাষীরা শামুকের মাংস বের করে নেয়ার পর খোলস মিল মালিকদের নিকট বিক্রি করে দেয়। মিল মালিকরা শুকিয়ে মেশিনে চূর্ণ করে পাউডার বানানো হয়। পাউডার মাছের ঘের ও মুরগির খামারে ব্যবহারের জন্য প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। মত্স্য বিশেষজ্ঞরা জানান, কিছু ফিস ফিড কোম্পানির মালিকরা প্রয়োজনের তুলনায় কম কেমিক্যাল দিয়ে বেশি পরিমাণে শামুকের পাউডার দিয়ে ফিস ফিড তৈরি করে যাচ্ছে। যা খেয়ে মাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চিতলমারী উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা অমলেন্দু বিশ্বাস জানান, শামুকের মাংস মাছের উপাদেয় খাবার। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, শামুকের খোলসে ক্যালসিয়াম থাকায় পোল্ট্রি ফিডে শামুকের গুঁড়া ব্যবহার করলে মুরগির ডিম উত্পাদন বাড়বে।