বন্দী ছয় জঙ্গিকে ফেরত চায় ভারত

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২১:২৭
বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী ছয় ইসলামি জঙ্গি নেতাকে ফেরত চাইছে ভারত। সম্প্রতি দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক সভায় এই ছয়জনকে ফেরত চায় ভারত। তবে এই মুহূর্তেই তাদের ফেরত দিতে চাইছে না বাংলাদেশ। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা এই প্রসঙ্গে জানান, এই জঙ্গিরা পুরো উপমহাদেশের জন্য হুমকি। তাই তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, যেসব ভারতীয় জঙ্গি নেতা ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের যোগাযোগ ছিল। তারা বাংলাদেশেও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তাই তাদের সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ডিবির একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জানান, এসব ভারতীয় জঙ্গি নেতা শুধু ভারত বা বাংলাদেশের জন্যই হুমকি নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্যও হুমকি। তাদের কাছ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি সংগঠন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। বন্দী জঙ্গিরা হলেন, মুম্বাইয়ের ডন দাউদ ইব্রাহিমের ভাতিজা আব্দুর রউফ দাউদ মার্চেন্ট, মুম্বাইয়ের আরেক ডন ছোটা শাকিলের সহযোগী জাহিদ শেখ ও দাউদ ইব্রাহিমের সহযোগী আরিফ হুসাইন, ভারতের জঙ্গি সংগঠন আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের নেতা মুফতি ওবায়দুল্লাহ ওরফে আবু জাফর, লস্কর-ই তৈয়্যবার নেতা মাওলানা মনসুর আলী হাবিবুল্লাহ ও মাওলানা এমাদুল্লাহ। বিভিন্ন মামলায় এই ছয় জঙ্গি জামিন পেলেও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) আটকাদেশে (ডিটেনশন) তারা এখন কারাগারে বন্দী রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুম্বাইয়ে সঙ্গীত পরিচালক গুলশান কুমার হত্যা মামলায় ভারতের আদালত দাউদ মার্চেন্টকে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ দেয়। ওই মামলায় দাউদ মার্চেন্ট প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আত্মগোপন করেন। ২০০৯ সালের ৯ জুন দাউদ ইব্রাহিমের অন্যতম সহযোগী আরিফ হুসাইনকে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ডিবি গ্রেফতার করে। এর আগে ওই বছরের ২৭ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মুম্বাইয়ের আরেক ডন ছোটা শাকিলের সহযোগী জাহিদ শেখকে ডিবি গ্রেফতার করে। একই বছরের ২১ জুলাই ঢাকার দক্ষিণখানের একটি মাদ্রাসা থেকে ভারতের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়্যবার আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা মনসুর আলীকে (৪০) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করে। এর এক সপ্তাহ পর ডিবি ভারতের আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের অন্যতম নেতা মুফতি ওবায়দুল্লাহ ও মাওলানা এমাদুল্লাহকে গ্রেফতার করে ঢাকা থেকে।