উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলছে কত না গ্রাম। এমনি এক গ্রাম হলো কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের দামিয়া। কেউ বলে হাওর এলাকা, কেউবা বলে ভাটি এলাকা। এই গাঁয়ের আবুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী নুরুন নাহার প্রায় ষোল বছর ধরে তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর কাজ করছেন। গত বছর তাঁরা ৩ লাখ ২০ হাজার হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করে আয় করেছেন ১১ লাখ টাকা। ডিম ক্রয়, কর্মচারীর বেতনভাতাসহ সর্বমোট তাঁদের খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ টাকা। নীট লাভ হয়েছে ৫ লাখ টাকা। আবুল হোসেন জানালেন, এক সময় বহুকষ্টে দিন যাপন করতে হতো। পৈত্রিক ভিটা ছাড়া কিছুই ছিল না। পল্লি দারিদ্র্যবিমোচন ফাউন্ডেশনের ঋণ নিয়ে তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর কাজ শুরু করার পর থেকে ধীরে ধীরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে থাকে। কয়েক বছরের মধ্যেই লাভের টাকা দিয়ে জমি-জমা বাড়াতে পারলাম। মাছের পুকুরও আছে ১টি, সেখান থেকেও নিজের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে বছরে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ করছি। জমি করেছি এ পর্যন্ত মোট ৪ একর।
আবুল হোসেনের সাফল্য দেখে দামিয়া গ্রামে আরো ৫০ জন কৃষক তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর খামার গড়ে তুলেছেন। এভাবে গ্রামের দরিদ্ররা ফিরে পেয়েছেন সচ্ছলতা। এঁরা সকলেই প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করে থাকেন। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দরিদ্রদের ঋণ দিয়ে তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটানোসহ কোনো না কোনো কাজে সম্পৃক্ত করা। তাই এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলে সহজেই দারিদ্র্য দূর করা সহজ হবে। শুধু তাই নয়, নতুন নতুন সদস্য সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ঋণের পরিমাণ যতোই বাড়ানো হবে ততোই দেশ থেকে দরিদ্রতা দূর করা সহজ হবে।
ঢাকা
