ছয় মাস উত্তপ্ত থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
বাংলাদেশে ছয় মাস পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের শরিক জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার একটি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই তারা এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে। নইলে বিক্ষোভ ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেবে বলে আগাম হুমকি দিচ্ছে বিরোধী দল। এ অবস্থায় আগামী ছয় মাস বাংলাদেশে খুবই অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করবে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের আজ শনিবারের ছাপা সংখ্যায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের সাজা, রাজপথে সহিংসতা, সম্প্রতি পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে বিরোধী শিবিরের জয়লাভের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহিংস ঘটনার শিকার হয়। অবরোধ ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচিতে জনজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আরো রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বিরোধী দল। তারা বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া আগামী নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর। গত বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের হাউস অব লর্ডসের একটি কমিটি কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানায় সরকারি ও বিরোধী দল। এ প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশি পলিটিক্স জামায়াত টুমরো’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধান ইসলামিক দল জামায়াতে ইসলামীর স্ক্রু টাইট দেয়া হচ্ছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতের দুই বড় নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আরো কয়েকজনের বিচার হচ্ছে। বর্তমানে জামায়াত বিধ্বস্ত রাজনৈতিক শক্তি; যাদের এখনো নিষিদ্ধ করা হয়নি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাস পর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের শরিক দল জামায়াতের অভিযোগ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার একটি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি দেশের পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। এখন তারা মনে করছে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের শরিক দলকে ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তারা আগামী নির্বাচন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার দাবি জানিয়ে আসছে। এ জন্য তারা বিক্ষোভ ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিচ্ছে। তাই আগামী ছয় মাস বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করবে না। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা বলছেন পাকিস্তানপন্থি জামায়াতের দীর্ঘদিন নেতৃত্বে ছিলেন গোলাম আযম; যিনি বুদ্ধিজীবী হত্যায় ‘টর্চলাইট’-এর মতো নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ডেথ স্কোয়াড হিসেবে কাজ করেছিল। গত ১৫ জুলাই ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমকে ৯০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে। তার অপরাধ মৃত্যুদণ্ডের তবে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনায় তাকে এ কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে তার আইনজীবীরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণেই তাকে দোষী করা হয়েছে। এর দুই দিন পর জামায়াতের আরেক শীর্ষ নেতা আলী আহসান মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মুজাহিদ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭১ সালে হত্যা ও হিন্দুদের উপর নির্যাতনের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত কয়েক মাস আগে রাজপথে সহিংস বিক্ষোভের পর তাদের দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে। এ সহিংসতায় জামায়াত ও ইসলামপন্থি দলগুলোর ১শ’র বেশি নেতাকর্মী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন রমজান মাসে রায়ের পর পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকবে। কিন্তু তার পরও গত সপ্তাহে এ ধরনের ঘটনায় কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।