ক্ষমতায় গেলে খালেদা জিয়া নতুন ধারার দুর্নীতি করবেন :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগেরবার ক্ষমতায় এসে তিনি (বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া) হাওয়া ভবন খুলেছিলেন। এবার ক্ষমতায় এলে আবার নতুন হাওয়া ভবন খুলে নতুন ধারায় দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লুটপাট ও মানিলন্ডারিং করবেন। তারা মা-বোনদের নির্যাতন করবে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করবে। জনগণকে এসব বিষয় মাথায় রেখে ‘দুর্বৃত্তায়নে বিশ্বাসীদের’ কাছ থেকে দেশকে রক্ষার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মুগদায় ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মুগদা জেনারেল হাসপাতাল উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার এক ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে সম্পূর্ণ নতুন ধারার সরকার গঠন করব। অন্যায় ও দুর্নীতির সঙ্গে আমরা কোনো আপস করব না। এই বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল এসব কথা বলেন। নবনির্মিত মুগদা জেনারেল হাসপাতাল চত্বর সংলগ্ন খোলা মাঠে সবুজবাগ ও খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম তার অনেক কিছুই পূরণ হয়েছে। কিছু ওয়াদার কাজ চলছে যা এখনো বাকি রয়েছে তা আগামীতে পূরণ করা হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনার জন্য নৌকায় ভোট দিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিচারের রায় পেতে শুরু করেছি। যারা সে সময় শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মা শান্তি পাচ্ছে। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি আছে? তিনি বলেন, আমরা ওয়াদা দিয়েছিলাম এ বিচার করব। আমরা ওয়াদা রক্ষা করেছি। ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়ার নামে লেখা নিবন্ধের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি একটি ইহুদি মালিকের পত্রিকায় আমাদের পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে লিখেছেন। যারা গার্মেন্টসে চাকরি করে তাদের পেটে তিনি লাথি মারতে চান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় বিএনপি নেত্রী হঠাত্ আমাদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন, সরকার হটিয়ে দিতে তিনি শাপলা চত্বরে হেফাজত বসালেন। গাছ কাটলেন, বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিলেন, কোরআন শরিফ পোড়ালেন। কার্যত বিএনপি ও জামায়াত-শিবির মিলেই এসব সন্ত্রাসী কাজ করেছে। এর আগেও জামায়াত-শিবির বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের সময় বাধা দিয়েছে, খতিব ও মোয়াজ্জিনকে অপমান করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারই এই মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করেছে। তিনি বলেন, ইসলামের নামে যারা রাজনীতি করে তারাই শত শত কোরআন পুড়িয়েছে। অথচ কথায় কথায় আমাদের নাস্তিক বলা হয়। আমরা নামাজ পড়ি, আমরাই হয়ে গেলাম নাস্তিক। আর যাদের সকাল হয় বেলা ১২টায় তারা হয়ে গেলেন বড় আস্তিক। এর বেশিকিছু বলতে চাই না, সবাই বুঝে নেবেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুই এদেশে মদ-জুয়া বন্ধ করেছিলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদের জন্য জায়গা দিয়েছেন। সারাদেশে মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নও করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। কাজেই আওয়ামী লীগই সবসময় ইসলামের সেবা করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য। আমরা স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই, যেন প্রতিটি নাগরিক মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে। এবার আমরা ৯০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছি। এবার রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়তে দিইনি। এভাবে আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।