হরতালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাট ও মাছ রপ্তানিতে ধস

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪১
দফায় দফায় হরতাল এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়িক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের পাট, পাটজাত পণ্য ও হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বৃদ্ধি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরের শেষদিকে ও চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের শুরু থেকে এই অঞ্চলে পাট, পাটজাত পণ্য ও চিংড়ি রপ্তানি আশংকাজনক হারে কমেছে। অন্যদিকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২০১০-১১ অর্থবছরে ৭৬৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার পাট রপ্তানি হলেও ২০১১-১২ বছরে তা কমে প্রায় ৫২৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে এ স্থলবন্দর দিয়ে এক বছরে পাটের রপ্তানি কমেছে ২৪৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। জেলা মত্স্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে খুলনা থেকে ৫৫৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার চিংড়ি ও সাদা মাছ রপ্তানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৭৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা কম। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী বদরুল আলম বলেন, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পাট রপ্তানিতে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে হরতাল, সহিংসতা ও নৈরাজ্যের কারণে রপ্তানির উদ্দেশে প্রায় ৩০ হাজার বেল পাটসহ ৩০০ ট্রাক বেশ কয়েক দিন বেনাপোল স্থলবন্দরে আটকে থাকে। খুলনা জেলা আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গাজী নাসিবুল হাসান বলেন, হরতালে পরিবহন ব্যবস্থা অচল থাকায় খুলনা অঞ্চলের অধিকাংশ মিল-কারখানাকে কাঁচামালের সংকটে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া বন্দরে আটকে পড়া কোটি কোটি টাকার পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হচ্ছে। খুলনা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, হরতাল-সংঘাতসহ অস্থিরতার কারণে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পপতি-ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের সুদও বাড়ছে। বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।