রামগঞ্জে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলে গুলি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৩
রামগঞ্জ উপজেলার সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি করেছে। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছে ২০জন। আহতদের মুমূূর্ষু অবস্থায় রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফেমাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে জিয়ার সমর্থকরা হামলার ঘটনায় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দীনকে দায়ী করে তার গাড়ী ভাংচুর করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বেশ কিছুদিন ধরে জিয়ার অনুসারীরা রামগঞ্জ পাট বাজার সড়কে অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও ইফতার পার্টির আয়োজন করে। শুক্রবার বিকালে অফিস উদ্বোধন শেষে জিয়া ঢাকা থেকে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখার সময় সন্ধ্যা ৬টায় হঠাত্ নূর প্লাজা সড়ক থেকে যুবলীগ কর্মী রকিসহ বেশ কয়েকজন সশস্ত্র মুখোশধারী সন্ত্রাসী সমাবেশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। গুলিতে নূর নবী, খোরশেদ, ফারুক, জালাল, আবদুল মজিদ, ফারুক, সুজিত বণিক, জাহাঙ্গীর আলম, সৈয়দ আহম্মেদ, সবুজ, রাজু, মোখলেছ, সেলিম শাহীসহ ২০ জন আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খোরশেদ ও ফারুককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সমাবেশস্থলে ছড়িয়ে পড়লে জিয়ার অনুসারী নেতা-কর্মীরা শহরে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। জিয়াউল হক জিয়ার অনুসারী সাবেক পৌর মেয়র হানিফ পাটোয়ারী, কাউন্সিলর আবুল কালাম খোকা পাটোয়ারী, সাবেক কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার লাতু, শেখ কামরুজ্জামান, মিজানুর রহমান মিরন ও গোলাম ছরোয়ার নাজিম উদ্দীন আহম্মেদকে দায়ী করে বলেন, গত কয়েক বছরেও তিনি উপজেলায় একটি দলীয় কার্যালয় স্থাপন করতে পারেননি। জিয়ার ইফতার পার্টিতে জনতার উপস্থিতি দেখে নাজিম উদ্দীন যুবলীগের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে ইফতার পার্টিতে গুলি বর্ষন করায় বলে তারা অভিযোগ করে বলেন, নাজিম উদ্দীনকে রামগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। এদিকে ইফতার পার্টিতে যুবলীগ দিয়ে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারে এমপি নাজিম উদ্দীন আহম্মেদের গাড়ীটি ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা। জিয়াউল হক জিয়া বলেন, আমার অনুষ্ঠানে দশ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখে নাজিম উদ্দীন পাগল হয়ে যুবলীগকর্মীদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে গুলি করে ২০জন নেতাকর্মীকে আহত করেছেন। অপরদিকে, এমপি নাজিম উদ্দীন আহম্মেদ রাত সাড়ে আটটায় বলেন, আমি কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে মোনাজাতের সময় জাকির হোসেন, মিন্টু ও জামালের নেতৃত্বে ৭/৮জনসহ জিয়াউল হক জিয়ার সন্ত্রাসীরা আমার দলীয় লোকজন ও গাড়ী ভাংচুর করে।