চট্টগ্রামে ঈদের বাজারে চাঞ্চল্য ফিরেছে। বিপণী বিতানগুলো ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে। রমজানের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতালে হোঁচট খেলেও গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে বাজারে প্রচুর ক্রেতার সমাগম দেখা যায়। বিশেষ করে চাকরিজীবীরা রাতে নগরীর ঈদের বাজারগুলোতে পরিবার-পরিজনসহ ভিড় জমায়।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন বেঁচাকেনাও ভাল হয়েছে। তারা আরো বলেন, রোজার প্রথম সপ্তাহ পার হওয়ার পর ঈদের বাজারের প্রথম কেনাকাটার যে চাপ থাকে এ বছর হরতালের কারণে তা ছিল না। তবে দোকানগুলোতে পণ্যের কোন অভাব নেই। প্রত্যেকেই নিজের সাধ্য অনুযায়ী পণ্য তুলেছেন দোকানে। মধ্য রমজানে বেঁচাকেনার চাপ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দোকানগুলোতে অতিরিক্ত কর্মচারিও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহের বেঁচাকেনার যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষাতে চলতি সপ্তাহকে ভালোভাবে ব্যবহার করতে চান ব্যবসায়ীরা। তাদের মন্তব্য গত সপ্তাহের মত আর কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি আসলে ঈদের বাজারের জন্য তা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।এদিকে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাণিজ্য ও বিপণী কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, রিয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন, আমতলা, টেরিবাজার, জহুর হকার্স মার্কেট, বে শপিং মার্কেট সংলগ্ন পতেঙ্গা হকার্স মার্কেট, আগ্রাবাদ, সিঙ্গাপুর মার্কেটসহ, বিভিন্ন স্থানের ফুটপাত ও সড়কের পাশে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কাপড় জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী নিয়ে ভ্রাম্যমাণ হকাররা বসে গেছেন। শুক্রবার এসব মার্কেটে স্বল্প আয়ের মানুষের বেশ আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এসব স্থানে বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, তারা মনে করছেন মধ্য রমজানের পর ঈদের বাজার ব্যাপকভাবে জমে উঠবে। সে অনুসারে তাদেরও প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া এ সমস্ত ভ্রাম্যমাণ হকাররা ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে বেঁচাকেনার পাট টুকিয়ে আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য চট্টগ্রাম ছাড়বেন।
এছাড়া আাামিন সেন্টার, ভিআইপি টাওয়ার, এ্যাপোলো শপিং সেন্টার, মিমি সুপার মার্কেট, নাসিরাবাদ সানমার ওশান সিটি, ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স, বায়েজিদ বোস্তামী হকার্স মার্কেট, পতেঙ্গা বে সুপার মার্কেট, ঐতিহ্যবাহী নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ ব্যাংকক সিঙ্গাপুর মার্কেট, পাহাড়তলী সুপার মার্কেট, চকভিউ মার্কেট, গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ারসহ বিভিন্ন বিপণী কেন্দ্রে ঈদ বাজার উপলক্ষে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর এসব বিপণী কেন্দ্রে কেনাকাটা করতে আসা নগরবাসীর যানবাহন সামাল দিতে বিশেষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মার্কেটসমূহের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদের কেনাকাটার সময় মানুষের নিরাপত্তা বিধানে নগরীর প্রায় দুইশ’ পয়েন্টে র্যাব ও পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে।
