২০০৭ সালের ৪ আগস্ট সিলেটে যে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে সেটি কাশ্মিরি জঙ্গি নেতা আব্দুল মাজেদ ভাট ও টাঙ্গাইলের মাওলানা তাজউদ্দিন সরবরাহ করেছিলেন। ওইদিন রাতে নগরীর ‘হোটেল গুলশান সেন্টারে’ অনুষ্ঠিত স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাশেষে হোটেলের সম্মুখেই পাকিস্তানি জঙ্গিবাহিনীর আনা শক্তিশালী আর্জেস গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয় উপস্থিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ ৩ বছর তদন্তশেষে মামলার অধিকতর তদন্তে এসব তথ্য উদ্ধার করেছে সিআইডি।
শক্তিশালী এই গ্রেনেডে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইব্রাহীম নিহত হন। আহত হন আওয়ামী লীগের বর্তমান বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহউদ্দিন সিরাজসহ ১৯ নেতাকর্মী। সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানসহ কয়েকজন।
২০০৭ সালে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত করেন সিআইডির সিনিয়র অফিসার মুন্সী আতিকুর রহমান। দীর্ঘ তিন বছর তদন্তশেষে অনেক তথ্য উদ্ধার করেছে সিআইডি। এ সপ্তাহেই মামলার সম্পূরক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়া হবে বলে সিআইডি সূত্র জানায়।
অধিকতর তদন্তে ‘গুলশান সেন্টারে’ হামলার মামলায় কাশ্মিরি জঙ্গি সাহেদ ভাটকে এ মামলায় শ্যোন এরেষ্ট দেখানো হয়েছে। এরপর মাজেদ ভাটকে রিমান্ডে নিলে মাজেদ সিআইডিকে জানায় লস্কর-ই-তৈয়বাসহ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। পাকিস্তান থেকে গ্রেনেড মাজেদ ভাটের কাছে আসতো। আর তা মওলানা তাজউদ্দিন ও মুফতি হান্নানের মাধ্যমে সরবরাহ হতো বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে। সিআইডি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে যে-মাজেদ ভাট গ্রেনেড বহনকারী ও প্রধান সহযোগী মাওলানা তাজউদ্দিন। আরেক জঙ্গি বিপুলকে ৪টি গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল মুফতি হান্নান ও তাজউদ্দিন। বিপুল ছিল সিলেটে জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত। পরে জঙ্গি রিপনের কম্পিউটারের বক্সে করে গ্রেনেডগুলো সিলেটে আনা হয়। বিপুল তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত সভায় গুলশান সেন্টারের সম্মুখে সভার কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাত ৯ টার দিকে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে। জঙ্গি বিপুল আদালতে বলেছে তাদের টার্গেট ছিল মিছবাহ উদ্দিন সিরাজসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।
