দুই দশকের মধ্যে রুপির সাথে টাকার বিনিময় হার সর্বোচ্চ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২১:০১
বিগত দুই দশকের মধ্যে বর্তমানে ভারতীয় রুপির সাথে বাংলাদেশের টাকার বিনিময় হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সীমান্তের ওপারের মানি এক্সচেঞ্জ মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশের একশ’ টাকার বিনিময়ে ভারতীয় ৭৩/৭৪ রুপি দেয়া হচ্ছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। ডলারের সাথে ভারতীয় রুপির দর পতনের পর ভারতীয় রুপির সাথে বাংলাদেশের টাকার বিনিময় হার বেড়ে চলেছে। এ বছরের শুরুতে রুপির সাথে টাকার বিনিময় হার একটু করে বাড়তে থাকে। ২০১২ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের একশ’ টাকার বিনিময়ে ভারতীয় ৫৮/৬০ রুপি দেয়া হত। জানুয়ারিতে একটু একটু করে টাকার মান বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের একশ’ টাকার বিনিময়ে ভারতীয় ৬০/৬২ রুপি দেয়া হত। তারপর ৬৫/৬৬ রুপিতে উঠে। এপ্রিল-মে মাসের আরো চড়ে ৬৮/৭০ রুপিতে উঠে। গত বুধবার বেনাপোল স্থল বন্দরের ওপারে পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় মানি একচেঞ্জগুলো বাংলাদেশের একশ’ টাকার বিনিময়ে ভারতীয় ৭৪ রুপি করে দেয় বলে জানা যায়। দর্শনা সীমান্তের ওপারে গেদেতে ৭৩ রুপি দেয়া হয় বলে ভারত প্রত্যাগত এক যাত্রী জানান। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় চেকপোস্টগুলোতে টাকা বদলের ব্যবসা অনেক পুরানো। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এ ব্যবসা শুরু। নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের টাকা বদলওয়ালাদের হাতে। মূল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত কলকাতার মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা। তারা প্রতিদিনের টাকার সাথে রুপির বিনিময় হার নির্ধারণ করে দিত। সে আনুযায়ী সীমান্তে টাকা-রুপি অদল-বদল হত। এখনও সে অবস্থা বহাল আছে। ১৯৬৫ সালে ভারত- পকিস্তান যুদ্ধের পর এ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় টাকা-রুপির অদল-বদল ব্যবসা ফের স্ফীত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দু’ দেশের মধ্যে লোক যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য বহুগুণ বৃদ্ধির পর টাকা-রুপির বদল ব্যবসা আরো বেড়ে যায়। প্রথম দিকে এ ব্যবসা সরকারের অনুমোদন ছাড়া হত। বেশ কয়েক বছর আগে ভারত সরকার মানি একচেঞ্জারদের লাইসেন্স দেয়। এর কয়েক বছর পর বাংলাদেশ বৈধ রুটগুলোতে মানি একচেঞ্জ লাইসেন্স প্রদান করে। তবে টাকা-রুপির অদল-বদল ভারত সীমান্তে বেশি পরিমাণ হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় যাত্রীরা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া টাকা ওপারের মানি একচেঞ্জারদের কাছ থেকে বদলে নেয়। আবার আসার সময় বদল করে বাংলাদেশি টাকা নিয়ে আসে। স্বল্পসংখ্যক যাত্রী সঙ্গে করে আনা রুপি এপারে এনে ভাঙ্গায়। ১৯৭৪/৭৫ সালে বাংলাদেশের টাকার মান কমে যায়। একশ’ টাকার বিনিময়ে ৪০/৪২ রুপি দেওয়া হত। এরপর বাড়তে থাকে। ১৯৮২ সালে এক সময় একশ’ টাকার বিনিময়ে ভারতীয় ৯০ রুপি পর্যন্ত উঠে। পরে আবার কমে যায়। টাকা-রুপির বিনিময় হার উঠানামা করে আসছে। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় হাট- বাজারে বাংলাদেশি কারেন্সিতে পণ্য কেনা যায়। বলা হয় বাংলা টাকা। বাংলাদেশি সীমান্তে ভারতীয় রুপি কারো কাছে পেলে তার বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা আইনে মামলা হয়। ওপারে এ সবের বালাই নেয়।