রাজশাহীতে এবারে পাটের আবাদ কম

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২২:০৮
চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ২০ হাজার বিঘা কম জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বীজ বপনের মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেক কৃষক পাটের বীজ বপন করতে পারেনি। এছাড়া বিগত মৌসুমে পানির অভাবে যেসব কৃষক পাট জাগ দিতে পারেনি এবং কষ্টে উত্পাদিত পাট বাজারে নিয়ে ন্যায্যমূল্য পায়নি তারা ইচ্ছা করেই পাটের আবাদ ছেড়ে দিয়েছেন। কৃষিবিদ ও কৃষকরা বলেন, বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করে রাজশাহী অঞ্চলে পাটের আবাদ হয়। কিন্তু বীজ বপনের মৌসুম অতিক্রান্ত হলেও এবার রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেক কৃষক পাটের আবাদ করতে পারেনি। যাদের জমি সেচ সুবিধার আওতায় রয়েছে, তারা সেচ দিয়ে আবাদ করেন। তারা আরো বলেন, গত বছর বাজারে পাটের দাম কম ছিল। কিন্তু শ্রমিক ও সেচের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। একদিকে শ্রমিক ও সেচ খরচ বেশি, অন্যদিকে পাটের দাম কম। ফলে উত্পাদন খরচ উঠছিল না। সরকার ন্যায্যমূল্যে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে পাট কিনলে কৃষকরা লাভবান হতো। কিন্তু সরকার সেটি করেনি। পবা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের কৃষক একাব্বর আলী বলেন, গত বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। সেচ ও শ্রমিক খরচ বেশি হওয়ায় পাট বিক্রি করে তার উত্পাদন খরচ ওঠেনি। এবার অল্প কিছু জমিতে আবাদ করার ইচ্ছা থাকলেও পানির অভাবে পাটের আবাদ এবার করেননি। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার রাজশাহীতে পাট আবাদের টার্গেট ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৫১৪ হেক্টর জমিতে। কিন্তু তা পূরণ হয়নি। অথচ গত বছর রাজশাহীতে পাটের আবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, এবার এপ্রিল থেকে মে’র মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট বৃষ্টি হয়েছে ৭২ মিলিমিটার। চলতি জুলাইয়ের ১৫ দিনে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫০ মিলিমিটার। অথচ গত বছর শুধু এপ্রিলেই বৃষ্টি হয়েছিল ১২৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার।