দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে দেব না

মতবিনিময় সভায় প্রত্যয়

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২২:২৪
নারী অগ্রগতির পথে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ। গতকাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত ‘উগ্র সামপ্রদায়িক শক্তির আস্ফাালন এবং তালেবানি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারার বিরুদ্ধে-ঐক্যবদ্ধ জাতীয় জাগরণ গড়ে তোল’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তারা এই হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন। রাজনীতিবিদ অজয় রায়ের সভাপতিত্বে সভায় ধারণাপত্র পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী। আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায়, সম্মিলিত সামাজিক জোটের পক্ষ থেকে অধ্যাপক তবারক হোসেন, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভুঁইয়া প্রমুখ। জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, বিগত এক বছরেরও অধিককাল ধরে দেশে যে ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুকরণ ঘটে চলেছে তাতে নাগরিক সমাজ গভীরভাবে উত্কণ্ঠিত না হয়ে পারে না। প্রবাহমান এই ঘটনাপঞ্জির ব্যাপারে আমরা আপনাদের মতামতও জানতে চাই এবং সেই মত ভবিষ্যতের জন্য আমাদের কর্মপন্থা নির্দিষ্ট করতে চাই। জামায়াত-শিবিরের তান্ডব আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। তাদের সাথে যুক্ত হচ্ছে বিএনপি। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সরকার সম্পর্কে জনমনে কিছু নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। তার জন্য সরকার এবং সরকারি দলের ব্যর্থতাই দায়ী। মানুষের সাথে তাদের ক্রমবর্ধমান ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ব্যাপকতা, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে অর্থহীন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া, রাজনৈতিক দল হিসেবে মূল স্থবিরতা, ১৪ দলীয় জোটের স্থবিরতা প্রভৃতি সবকিছু মিলিয়ে সরকার এবং জনগণের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ, শেয়ার বাজার দুর্নীতি, হলমার্ক বা ডেসটিনির মতো বড়ো ঘটনায় অর্থবহ কোনো পদক্ষেপ না নেয়া প্রভৃতি কারণে এই দূরত্ব ক্রমশ আরো জটিল হচ্ছে। ধর্মের নামে নারীদের মধ্যযুগীয় কায়দায় অন্ধযুগে ঠেলে দেয়া দেশের জন্য অকল্যাণকামী সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা, সংখ্যালঘুদের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তা অতিসত্বর সমাধান করা, জামায়াত ইসলামীকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, হেফাজতে ইসলামের সংবিধান বিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া, ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ঢাকাসহ সারাদেশে যে তান্ডব চালিয়েছে তা প্রচার করার দাবি জানান তিনি। দেশে অধিক সামপ্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তারা নারীকে অসম্মান করছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার থাকাকালীন এই অবস্থা সৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ ভীত শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সরকার শাসন আমলে যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করার আহবান জানান তিনি। বক্তারা গোলাম আযমের রায়ে দেশের মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটেনি বলে দাবি করেন। আগামী নির্বাচনে এই সরকার ক্ষমতায় না এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর হবে না এমনটাই তাদের আশঙ্কা। তাই অনতিবিলম্বে রায় কার্যকর করার আহবান জানান তারা।