চীনা রোজক্যাপ ব্যবহারে গোলাপ চাষে সাফল্য

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৩
গোলাপের কুঁড়িতে চীনা রোজক্যাপ ব্যবহার করে সীমান্ত সংলগ্ন উপজেলা শার্শা ও ঝিকরগাছার ফুলচাষিরা সাফল্য পেয়েছেন। এর ফলে তারা এখন গোলাপের প্রত্যাশিত দাম পেয়ে খুশি। ২ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি গোলাপে রোজক্যাপ ব্যবহারের কারণে সময়মতো এ ফুল ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়—বিদেশেও এ ফুলের রপ্তানির চাহিদা বাড়ছে। এমকি রোজক্যাপ ব্যবহার করা এ গোলাপ ফুলের মান অন্য যেকোন ফুল থেকে আলাদা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রোজক্যাপ ব্যবহারে ফুলপ্রতি চাষিদের খরচ হয় মাত্র ৫০ পয়সা। এটি স্থিতিস্থাপকতা গুণসমৃদ্ধ প্লাস্টিকের এক ধরনের ক্যাপ। গোলাপের যখন কুঁড়ি হয় তখন ক্যাপটি কুঁড়িতে পরিয়ে দিতে হয়। এর ফলে কুঁড়িটি পোকার উপদ্রব ও প্রাকৃতিক সকল ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। তাই ক্যাপের ভেতর কুঁড়িটি একটি উন্নতমানের পূর্ণাঙ্গ গোলাপ হিসেবে ফোটে। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, ফুল চাষের ওপর অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি চীনে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে গোলাপ ফুলে রোজক্যাপের ব্যবহার দেখেন। দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশে উন্নতমানের গোলাপ উত্পাদনের জন্য রোজক্যাপ নামে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ফুলচাষিদের জানান। তিনি আরো জানান, চাষিদের রোজক্যাপ বিষয়ে আগে জানা ছিল না। তাছাড়া দেশে এই ক্যাপ তৈরি হয় না, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। প্রথমে তিনি নমুনা হিসেবে চীন থেকে কিছু ক্যাপ এনে ব্যবহার করে শতভাগ সাফল্য পেয়েছেন। প্রথমে ফ্লাওয়ার সোসাইটি, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে ফুলচাষিদের ধারণা দেয়া হচ্ছে। এর সুফল পেয়ে অনেকেই রোজক্যাপ ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। গদখালির সরদার নার্সারির মালিক রুস্তম আলী সরদার বলেন, ২৮ বছর ধরে ফুলচাষ করছি। কিন্তু রোজক্যাপ সম্পর্কে জানা ছিল না। সমিতির মাধ্যমে বিষয়টি জেনে আজ এটি ব্যবহার করে যথেষ্ট লাভ হচ্ছে। একই কথা জানান হাড়িয়া গ্রামের শাহজাহান কবির ও পানিসারা গ্রামের রফিকুল ইসলাম। তবে এই ক্যাপ প্রথমে আমদানি না হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছিল না। বর্তমানে আমদানি হওয়ায় এ ক্যাপ এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফুল রপ্তানি বাড়াতে এ ক্যাপের মূল্য কমাতে সমুদ্র পথে আমদানি করতে ফুলচাষিরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।