‘নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সব দলের প্রতি আহ্বান’

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২৩:১১
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ক্ষমতার পরিবর্তন হবে। গতকাল শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকারের সময় অনুষ্ঠিত ৫ হাজার ৬৪৪টি নির্বাচনের মাধ্যমে ৬৩ হাজার ৪৮০ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এতগুলো নির্বাচনের একটিতেও কোন সমস্যা হয়নি। জনগণ যাকে চেয়েছে, তারাই নির্বাচিত হয়েছেন। সরকার কোনরকম হস্তক্ষেপ করেনি। নির্বাচন কমিশনও স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সাহস দেখাতে পেরেছে। অন্য কোনো সরকারই অবাধ নির্বাচন করেনি। যতদিন এই গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচন না হবে ততদিন গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না। গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে না। দেশের উন্নয়নও হবে না। দেশের ইতিহাসে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগই একমাত্র শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন করে আমরা গণতন্ত্র সুসংহত করেছি। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছি। অসাংবিধানিকভাবে আর কেউ যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, সামরিক কিংবা সামরিক নিয়ন্ত্রিত কোনো সরকার আসতে না পারে- সেটাও নিশ্চিত করেছি। জাতীয় সংসদে যোগ দিয়ে সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে তাদের কিছু কিছু বক্তব্য এত জঘন্য ও নোংরা ছিল যে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ঘৃণা বোধ করেন। এতে গোটা জাতিও ঘৃণা বোধ করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাহসের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে যাচ্ছে। একের পর এক রায়ও দিচ্ছে। এই বিচারের মাধ্যমে জাতির মধ্যে নবচেতনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুলে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসও মানুষ জানতে পারছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরো বলেন, জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী সরকার এই বিচার কাজ শুরু করেছিল। বিচার চলছে, আমরা বিচারের রায়ও পেতে শুরু করেছি। এই রায় কার্যকরও হবে। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর বিএনপিই যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদর ও জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছে। এখনও তাদের রক্ষার জন্য বিএনপিই নানাভাবে ধ্বংসাত্মক কাজ করছে। যেহেতু পঁচাত্তরের পর বিএনপির হাতেই জামায়াতের রাজনীতি শুরু, সেহেতু এখন বিএনপিই জামায়াতকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের ৫ মে’র তাণ্ডবের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হেফাজতের নামে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়ানো যেকোনো মুসলমানের মনেই আঘাত হানবে। ইসলামের ইতিহাসে একসঙ্গে এত কোরআন শরীফ পোড়ানো আর কখনোই ঘটেনি। এর প্রতি তীব্র ঘৃণা জানাই। সরকারের সাড়ে চার বছরের উন্নয়ন কাজের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে আওয়ামী লীগের আমলে যত উন্নয়ন হয়েছে, এর আগে অন্য কোনো সরকারের সময় তা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।