আবর্জনা ও যানজটে অতিষ্ঠ শহরবাসী

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২১:০৯
ময়মনসিংহ শহরে নতুন কেউ বেড়াতে আসলে শহরের ময়লা-অর্বজনা, যানজট, নোংরা পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে মন্তব্য করেন ‘এ শহরটি কি দেখার কেউ নেই’। প্রতিদিনই রাস্তার উপর ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। রিকসা ও অটো রিকসার কারনে যাটজটে অতিষ্ট শহরবাসী। নেই ফুটপাত। যে টুকু ফুটপাত রয়েছে, সেগুলো এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেও দখলে। যানজট নিরসন এবং শহরবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে তারা শহরে টাউন সার্ভিস চালুর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও বহুল প্রতিক্ষীত ময়মনসিংহ টাউন সার্ভিস আজো বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বেড়েছে অতিরিক্ত নাগামহীন রিকসা বাড়া। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শহরের গাঙ্গিনারপাড় মোড় থেকে মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আগে ভাড়া ছিল ১০ টাকা। বর্তমানে এ ভাড়া বেড়ে গিয়ে দাড়িয়েছে ২৫-৩০ টাকায়। রিকসারভাড়ার একটি চার্ট/তালিকা থাকলেও এটি আমলে নেয়া হচ্ছেনা।ময়লা আবর্জনা নিয়ে নানা রকম বিড়ম্বনার শিকার লোকজনের অভাব নেই এ শহরে। ময়মনসিংহ শহরের রুগ্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে শহরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। শহরের এমন কোন সড়ক নেই যে সড়কে দু’চারটি খোলা স্থানে বাসা-বাড়ী, হোটেল-দোকান পাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয়। বিভিন্ন এলাকায় ময়লা ফেলার পাকা ডাস্টবিন থাকার কথা থাকলেও তা নেই বললেই চলে। দেশের বৃহত্তম এ পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের জন্যে পুরাতন ৩২৮ টি পুরাতন ডাস্টবিনের মধ্যে বর্তমানে শ’খানেক ভাঙ্গা পুরাতন ডাস্টবিন রয়েছে। বিভিন্ন মহল¬ায় ঘুরে দেখা যায় ময়লা আবর্জনার ভয়াবহ চিত্র। শহরের চরপাড়া মোড়ের ব্যবসায়িরা জানান, গুরুত্বপূনৃ এস্থান থেকে ডাস্টবিনটি সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। একেতো পাশেই হাসপাতাল তার উপর এ স্থানটি শহরের প্রবেশ মুখ। মেডিকেল কলেজ গেইটের ব্যবসায়িরা ও পতচাররাি বলেন, মহাসড়কের উপর যে ভাবে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ময়লা ফেলা হয় তা দুঃখজনক। পৌরমেয়র ইকরামুল হক টিটু যানজট, পরিচ্ছন্নতা, ফুটপাত, অবৈধ যান চলাচলের কথাস্বীকার করে বলেন, এসব সমস্যা সমাধান/নিরসনের দায়িত্ব হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের। এ শহরের ১২হাজার ৫শত রিকসা ও ৭শত ৪০টি অটোরিকসার লাইন্সেস দেয়া হলেও অবৈধ রিকসা/অটো টেম্পুর পরিমান বর্তমানের চেয়ে দিগুনেরও বেশী হবে। মেয়র জানান, পৌরসভার জলাবদ্ধা দূরীকরণে ট্রেন নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ১০ কিলো নতুন রাসত্মা ও ৪০ কিলো রাসত্মা পূনঃসংস্কার করা হয়েছে। উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধের স্বল্পতা, যানবাহন/জনবলের স্বল্পতা, বিলম্বে বরাদ্ধ পাওয়া ও কোন কোন ড়্গেত্রে ঠিকাদারকে দায়ি করে বলেন, পৌরবাসীর পানি সরবরাহের জন্য ২টি নতুন টেংক, ৪০ কিলো পাইপ লাইন নির্মাণ ও পূনঃসংস্কার করা হয়েছে। শহরের ড্রেন পরিস্কার ও খননের জন্য এসকেলেটর ও আবর্জনা পরিস্কারের জন্য পেলুডার আনা হয়েছে। বিনোদন জন্য বিপিন পার্ক সংস্কার, শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আইলেন্ড করা হচ্ছে। শহরের ময়লা আবর্জনাকে স্থায়ী সমাধানের জন্য আকুয়াতে কম্পোর্ট পস্নান্ট করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সমস্যা সমাধানে পৌরবাসী, বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশসহ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা পেলে সকল সমস্যাই সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।