আঠারবাড়ি জমিদার বাড়ি কালের নীরব সাক্ষী

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২১:১৫
সাহিত্য সংস্কৃতি ও শিল্পকলায় সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অধিকারী ময়মনসিংহের কীর্তি সর্বজনবিদিত । মোমেনশাহীর নতুন ইতিহাস, ময়মনসিংহের জীবন ও জীবিকা, মৈমনসিংহ গীতিকা, গেজেটিয়ার ময়মনসিংহ ইত্যাদি গ্রন্থে ময়মনসিংহের সংস্কৃতি চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে । এই ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম একটি জনপদের নাম আঠারবাড়ি । এখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আঠারবাড়ি জমিদার বাড়ি । জমিদার বাড়ির সম্মুখ দিয়ে চলার পথে পথিক এখনও থমকে দাঁড়ায় ; কৌতূহলভরা দৃষ্টিতে অবলোকন করে জমিদার বাড়ির স্থাপত্যশৈলী । উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পূর্বে বর্তমানে পরিত্যক্ত, দৃষ্টিনন্দন, সুবিশাল জমিদার বাড়ির স্মৃতিচিহ্ন এখন বিলুপ্তির পথে । অপরূপ স্থাপত্যশৈলী ও চমত্কার কারুকার্যময় এ রাজবাড়িটির বয়স প্রায় আড়াইশ বছর। জানা যায়, ১৯৭৩ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত মোমেনশাহী (ময়মনসিংহ) পরগনা রাজশাহী কালেক্টরেটের অধীনে ছিল। সে সময় মহারাজ রামকৃষ্ণের জমিদারি খাজনার দায়ে নিলামে উঠলে এ পরগনাটি ‘খাজে আরাতুন’ নামে এক আর্মেনীয় ক্রয় করেন। ১৮২২খৃষ্টাব্দে আরাতুনের ২ মেয়ে বিবি কেথারিনা, বিবি এজিনা ও তার ২ আত্মীয় স্টিফেন্স ও কেসপার্জ প্রত্যেকে ৪ আনা অংশে এ পরগনার জমিদারি লাভ করেন। ১৮৫৩ খৃষ্টাব্দে আঠারবাড়ির জমিদার শম্ভুরায় চৌধুরী, বিবি এজিনার অংশ মতান্তরে কেসপার্জের অংশ ক্রয় করেন। পরে মুক্তাগাছার জমিদার রামকিশোর চৌধুরীর জমিদারি ঋণের দায়ে নিলামে উঠলে তা শম্ভুরায় চীেধুরীর পুত্র মহিম চন্দ রায় চৌধুরী কিনে নেন। জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর তাদের আয়ত্তে আসে উত্তরে গৌরীপুরের রাজবাড়ি, পশ্চিমে রামগোপালপুর, ডৌহাখলা দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর ও নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলা। তাছাড়া বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর জেলার বেশ কয়েকটি মৌজা ছিল এ জমিদারের দখলে। প্রতি বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এসব জেলা শহরে স্থাপিত আঠারবাড়ি কাচারি বাড়িতে নায়েব উপস্থিত হয়ে খাজনা আদায় করতেন। আজও এসব কাচারি “ আঠারবাড়ি বিল্ডিং” নামে নিজ নিজ জেলায় পরিচিতি পেয়েছে। জমিদার বংশের উপাধি ‘রায়’ থেকে পরবর্তীতে উপজেলার অন্যতম প্রধান ব্যবসাকেন্দ রায় বাজারের নামকরণ করা হয়।