চলন বিলের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত সলঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস সংলগ্ন মসজিদের খাদেম ও মোয়াজ্জিম ৮০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস। ভুমিহীন ও ঘরবাড়ি ্বিহীন আব্দুল কুদ্দুস বাড়ি ঘরের চিন্তা না করে গত ৫০ বছর যাবত্ আযানের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে প্রশান্তি খুঁজে পান। কিন্তু কায়ক্লেশে জীবন কাটলেও কোন দিন কারো কাছে হাত পাতেঁন নি। দৈনিক ইত্তেফাকে তাঁর জীবনের করুণ হাল প্রকাশিত হলে তা মেডোনা গ্রুপের চেয়ারম্যান দানবীর আখতারুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দানবীর আখতারুজ্জামান আযানের মাঝেই প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া মানুষটির জন্য সলঙ্গা থানা সদরের মধ্যপাড়া ভরমোহনী মৌজায় ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে দেন। ‘‘মুক্তিযোদ্ধারা রিক্সা চালাচ্ছে আর অমানুষগুলো টাকায় ভাসছে” শিরোনামে দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে গোপালগঞ্জের সারোয়ার নামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তার প্রবীন বয়সে যশোহর শহরে রিক্সা চালানোর করুণ কাহিনী পড়ে বিচলিত আখতারুজ্জামান ভূমিহীন, সহায় সম্বলহীন, হতদরিদ্র রিক্সা চালক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারোয়ারকে যশোহর সদরের বাহাদুরপুর গ্রামে ৪শতক জমি ক্রয় করে দেন। শত শত অদম্য মেধাবী, অভাব আর দারিদ্র্যের মত শত বাঁধা যাদের দমাতে পারেনি, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে এবং যাদের নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয় এ রকম প্রায় ২ শতাধিক অদম্য মেধাবীর প্রত্যেককে প্রতি বছর এককালীন প্রায় ৯ হাজার টাকা করে প্রায় ২০ লাখ টাকার অনুদান দেন মেডোনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামান। উপরে উল্লেখিত ঘটনাগুলো বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ থেকে নেওয়া। এ সব প্রকাশিত সংবাদের নায়ক দানবীর আখতারুজ্জামান। যিনি মানবতার সেবায় নিভৃতে কাজ করার মধ্যেই খুঁজে যান অপার আনন্দ। তিনি গত ২ যুগ ধরে ভূমিকা রেখে চলেছেন মানব কল্যানে। দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা বিস্তার ও আর্তমানবতার সেবায় প্রশংসনীয় অবদান রেখে এরই মধ্যে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছেন।
মোঃ আখতারুজ্জামানের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামে। জীবন যুদ্ধে বহু ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজের পরিশ্রম ও নিরলস চেষ্টার মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসে উপনীত হয়েছেন। একদা হতদরিদ্র, এতিম বালক আজকের মেডোনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামান নিজ চেষ্টা ও সততার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। ঢাকা নগরীতে বাস করেও তিনি নিজ উপজেলা গফরগাঁও সহ দেশের গ্রামাঞ্চলের অসহায়, দুঃখী মানুষের কথা ভাবেন। মাঝে-মধ্যেই নাড়ির টানে ছুটে আসেন নিজ এলাকার আর্তপীড়িত, হতদরিদ্র, অসহায় সম্বলহীন মানুষের পাশে। মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রদের লেখাপড়ার খরচ, পরীক্ষার ফরম পূরণ ও ভর্তির টাকা যুগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, ও মসজিদের উন্নয়নে অকাতরে দান করে যাচ্ছেন। কন্যাদায়গ্রস্ত সম্বলহীন পিতাদের পাশেও দাঁড়ান তিনি তাঁদের নির্ভয় দিয়ে।
উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ৩ শতাধিক গৃহহীন ব্যক্তিকে সাড়ে ৩ বান করে ঢেউটিন, ঘর করার খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা এবং একটি করে গাভী কিনে দিয়েছেন। তার বদান্যতায় তারা টিনের ঘরে বসবাস করছে অনেক পরিবার তাঁর আর্থিক অনুদানে কেনা গাভীর দুধ বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে, হয়েছে স্বাবলম্বী। তিনি প্রতিবছর প্রায় ৩ সহস্রাধিক হতদরিদ্র শীতার্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন। এই খ্যাতিমান ব্যক্তির জন্মস্থান মাইজবাড়ি গ্রামে তাঁর উদ্যোগে অসহায় দুঃস্থ মানুষকে বিনামূল্যে আধুনিক চিকিত্সা সেবা প্রদানের লক্ষে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। উপজেলার রৌহা গ্রামে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা গড়ে তুলেছেন। এতিমখানাটিতে বর্তমানে প্রায় ৪শতাধিক এতিম লেখাপড়া করছে। আখতারুজ্জামান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩শতাধিক বেকার লোককে চাকুরী দিয়েছেন। তাঁর কাছে কেউ কোন সাহায্য সহযোগিতার জন গিয়ে শূন্য হাতে ফিরে আসেনি। তিনি সাধ্যমত সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। এভাবেই তিনি সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার, দারিদ্র বিমোচন ও আর্তমানবতার সেবায় অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
