ব লি উ ড

শর্মিলা ঠাকুর

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২১:১৯
‘...আধো-আলো ছাঁয়াতে, কিছু ভালোবাসাতে আজ মন ভোলাতে হবে বলো কার...’ গানের সাদাকালো সেলুলয়েডের শর্মিলা ঠাকুর জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের প্রাণ। চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সত্যজিত রায়ের মাধ্যমে। সত্যজিত্ রায় অপুর সংসার ছবির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নায়িকা খুঁজছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে নিছকই শখের বশে শর্মিলা নিজের ছবি পাঠিয়ে দেন। পরে সত্যজিত্ শর্মিলাকে নির্বাচন করেন তার ছবির নায়িকা হিসেবে। তখন শর্মিলার বয়স মাত্র ১৩ বছর। এভাবেই ১৯৫৯ সালে সত্যজিতের হাত ধরেই চলচ্চিত্র জগতে আগমন ঘটে শর্মিলার। সেই শুরু এরপর অবশ্য আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সত্যজিত্ রায়ের বহু ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। পরে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতেও ব্যাপক আলোড়ন তোলেন তিনি। হায়দ্রাবাদে ১৯৪৬ সালের ৪ ডিসেম্বর এক বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শর্মিলা ঠাকুর। প্রথম চলচ্চিত্রেই শর্মিলার অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা প্রকাশ পায়। এরপর তিনি সত্যজিত্ রায় পরিচালিত দেবী, অরণ্যের দিবারাত্রি, নায়কসহ বহু জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বলিউড থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন হিন্দি সিনেমায়। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে তিনি শাম্মী কাপুরের সঙ্গে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালের কাশ্মির কি কালি উল্লেখযোগ্য। এরপর শক্তি সামন্ত পরিচালিত আরেক হিট ছবি এন ইভিনিং ইন প্যারিসে ১৯৬৭ সালে আবারো শাম্মী কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করেন। এখানে বেশ খোলামেলা পোশাকে অভিনয় করে শর্মিলা বেশ হৈচৈ ফেলে দেন। হিন্দি সিনেমার জগতে রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরকে সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় জুটিগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ষাটের দশকে বলিউডের নায়িকাদের মধ্যে তাকে অন্যতম আবেদনময়ী নায়িকা হিসেবে ধরা হতো। ১৯৬৯ সালে রাজেশ খান্নার বিপরীতে শর্মিলা অভিনয় করেন আরাধনা ছবিতে। আরাধনায় অভিনয়ের জন্য শর্মিলা সেই বছর ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। এই আরাধনা সিনেমাটি এখনো হিন্দি ছবির জগতে স্মরণীয় হয়ে আছে। শর্মিলা-রাজেশ খান্না জুটি ১৯৭২ সালে অমর প্রেম নামে আরেকটি সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করেন। এই জুটি পরে দাগ, মালিক, সাফার-এর মতো ব্যবসা সফল ছবি উপহার দেন। এরপর ১৯৭৫ সালে গুলজারের মৌসুম সিনেমাটি করে শর্মিলা শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান। এছাড়াও তিনি মিরা নায়ারের মিসিসিপি মাসালা ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়ান। এর বাইরেও তিনি অনেক ক্ল্যাসিক ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি ও যশ অর্জন করেন। নিজের সন্তান সাইফ আলী খানের মায়ের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৬৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিয়ে করেন নবাব মনসুর আলী খান পতৌদিকে। নবাব মনসুর আলী ছিলেন ঐতিহ্যবাহী ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে এবং তত্কালীন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। তাদের ঘরে রয়েছে তিন সন্তান। সাইফ আলী খান, সাবা আলী খান ও সোহা আলী খান। এর মধ্যে সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খান বলিউডে বেশ জনপ্রিয়। অভিনয় এখন আর করেন না বললেই চলে। তবে তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ভারতীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের প্রধানের ভূমিকা পালন করেছেন। তার অভিনয় আর সুন্দর চেহারা দর্শকদের হূদয়ে আজও দাগ কেটে আছে।