ঝিনাইদহে গত আড়াই মাসে এক ইউপি চেয়ারম্যান, দু’ছাত্রসহ ১৫ জন খুন হওয়ায় পুরো জেলা জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক এবং উত্কণ্ঠা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই অপহরণকারীদের হাতে হরিণাকুন্ডুর কাপাসহাটির ২য় শ্রেণির ছাত্র আসাদুজ্জামান, ১৭ জুলাই রাতে লবিপুর মাঠে উজ্জল ও আসাদুল নামে দুই চরমপন্থি, ১২ জুলাই শৈলকুপার সাধুখালীতে আওয়ামী লীগের ফরেজ মন্ডল খুন হয়েছে। ১৪ জুলাই সদরের বড়বাড়ি গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৯ জুলাই রাতে বারোবাজারে আওয়ামী লীগ কর্মী মিঠুন, ১ এপ্রিল দিন দুপুরে বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফ খুন হয়। ১৬ জুন নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল বিশ্বাসকে গুলি করে এবং ১১ জুন সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে নিহত হয় কালীগঞ্জের সিংদহ গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী খাইরুল ইসলাম।
৮ জুলাই শৈলকুপার মিনগ্রামে অজ্ঞাত ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ, ৫ জুলাই মধুপুর বাজারের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল থেকে আজাদ হোসেন নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। ৩০ জুন অপহরণের পর খুন হয় ঝিনাইদহের ঠিকাদার সুলতান আহমেদ। মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৫ জুন রাতে জুগিহুদা গ্রাম থেকে ইলিয়াস হোসেনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। ৩ মে হরিণাকুন্ডুর দোলুয়াখালি ক্যানেলের ধারে পাওয়া যায় শাহাবুল ইসলাম ওরফে শাবুর (৩০) গলা কাটা লাশ। এভাবে এতগুলো খুনের কিছু লোককে আটক করলেও কোন খুনেরই কোন কিনারা মেলেনি।
এরপরও ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি দাবি করে বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ ব্যস্ত থাকায় দুর্বৃত্তরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের শেষ মুহূর্তে কিছু চরমপন্থী সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে এসে আধিপত্য বিস্তারেরও চেষ্টা করছে। আমরা কঠোর হাতে দমন করতে চেষ্টা করছি।
