শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঋণ ৮ শতাংশ হারে

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৬
শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরকে সরকার ঘোষিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ৮ শতাংশ হারে ঋণ দেয়া হবে। তহবিল পরিচালনায় নীতিমালা প্রণয়নের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি এ প্রস্তাব দিয়েছে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করে গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ নীতিমালা অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পরই আইসিবিকে (ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) পুনঃঅর্থায়নের প্রথম কিস্তি বাবদ ৩০০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুনঃঅর্থায়ন তহবিল রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির ব্যবস্থাপনায় ‘পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল’ নামে পরিচালিত হবে। ৪ শতাংশ সুদে এ অর্থ পাবে আইসিবি। আইসিবি সার্ভিস চার্জ হিসেবে ২ শতাংশ কেটে মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকারদের ৬ শতাংশ সুদে তহবিল সরবরাহ করবে। আর মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকাররা শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ পুনঃ তফসিল বা নতুন ঋণ প্রদান করবে। এ ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ছাড়াও নিবন্ধন সনদ বাতিল করতে পারবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চলতি জুলাই মাস থেকে সমান তিন কিস্তিতে এ অর্থ প্রদান করা হবে। জানা গেছে, ঋণ প্রাপ্তিতে বোর্ড রেজুলেশনসহ সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে আইসিবির কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবগুলো ২০১১ সালের অর্জিত সুদের ৫০ শতাংশ মওকুফের প্রত্যয়নপত্র, অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ একটি সুদবিহীন ব্লক হিসাবে স্থানান্তরের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। এ ছাড়া মার্জিন হিসাবে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ঋণ হিসাব থেকে মোট সুদ (মওকুফযোগ্য এবং প্রাপ্য) বাদ দেয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ ভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করে তিন বছরে সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধের জন্য পুনঃ তফসিলীকরণের জন্য প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার অংশ হিসেবেই পুনঃঅর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে কিভাবে এ তহবিল বিনিয়োগকারীদের দেয়া হবে এ সংক্রান্ত নীতিমালা না থাকায় তা এখনও বিনিয়োগকারীরা নিতে পারছেন না। এ প্রেক্ষিতেই ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিই পুনঃঅর্থায়ন সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে।