বল হাতেও ইংল্যান্ডকে জয় দেখাচ্ছেন রুট!

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২২:০০
ইয়ান বেল, গ্রায়েম সোয়ান আছেন; এমনকি অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিসও আছেন এই ম্যাচের তারকাদের তালিকায়। কিন্তু এদের সবাইকে ছাপিয়ে লর্ডস টেস্টের ‘নায়ক’ আসলে সেই একজনই—জো রুট। ব্যাট হাতে অসাধারণ এক ইনিংস খেলার পর বল হাতে পার্টটাইম বোলার রুটই ইংল্যান্ডকে নিয়ে গেছেন টানা দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের দ্বারপ্রান্তে। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে এবারের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের ২-০ লিড নেয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ম্যাচ জিততে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট হাতে নিয়ে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরও ৪৪৭ রানের অসম্ভব এক রান পাড়ি দিতে হবে! এমনকি ম্যাচ ড্র করাটাও অসম্ভব বলে ফেলা যায়। কারণ, এই অবস্থায় খেলা বাকী পুরো চারটি সেশন। ৫৮৩ রানের পর্বতসমান লক্ষ্যে খেলতে নেমে আরও একবার তাসের ঘরের মতো ধসে পড়া অস্ট্রেলিয়া গতকাল লর্ডস টেস্টের চতুর্থ দিনের চা বিরতি পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৩৬ রান তুলতে পেরেছে। নটিংহামে এবারের অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে পিছিয়ে পড়েও ১৪ রানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এই লর্ডস টেস্টে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ইয়ান বেলের ১০৯ রানের কল্যাণে ৩৬১ রান করেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে ১২৮ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া; সোয়ান নিয়েছিলেন ৪৪ রানে ৫ উইকেট। এরপর ইংল্যান্ডকে জয় দেখাতে শুরু করেন জো রুট। খেলার তৃতীয় দিন শেষে ১৭৮ রানে অপরাজিত ছিলেন রুট। কাল সকালে অবশ্য স্বপ্নের ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ২০ রান দূরে আউট হয়ে যান এই তরুণ ওপেনার। রুটের জন্য এই ২০ রানের আক্ষেপ থেকে গেলেও যে ইনিংস খেলেছেন, তা নিয়ে গল্প করতে পারবেন অনেক দিন। ৩৩৮ বলে ১৮টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস খেলতে পুরো তৃতীয় দিনটাসহ প্রায় পাঁচ সেশন ব্যাট করেছেন। রুট আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৭ উইকেটে ৩৩৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দেন অ্যালিস্টার কুক। এর মধ্যে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান বেল আবার ৭৪ রানের এক ইনিংস খেলে গেছেন। আর ইংলিশদের এই ব্যাটিং তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৮৩ রান; স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেও এই সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সাহস দেখানোর কথা নয়। যেটা কল্পনা করা যেত, অস্ট্রেলিয়া প্রায় ছয় সেশন ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু সে পথে হাঁটারও সুযোগ পায়নি তারা। লাঞ্চের আগের পানি পানের বিরতি হওয়ার আগেই ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। সোয়ান আবারও ২ উইকেট নিয়ে ধাক্কাটা দেন। এরপর দুটো ফিফটি করে উসমান খাজা ও মাইকেল ক্লার্ক চতুর্থ উইকেটে ৯৮ রান যোগ করে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চা বিরতির খানিক আগে এই দু জনকে নিজের পরপর দু ওভারে ফিরিয়ে দিয়ে আবার নায়ক সেই রুট।