২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু সমপ্রদায় ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর চারদলীয় জোট সমর্থকদের হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, খুন ও লুটপাটের ঘটনায় স্ব-স্ব থানার ওসিদের মামলা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে। এসব ঘটনার তদন্তে বর্তমান সরকারের সময় গঠিত তদন্ত কমিশনের কাছে সরাসরি ঘটনার বর্ণনা ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করার দীর্ঘ তিন বছর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ আদেশ দিলো।
গত বুধবার বরিশালের একাধিক থানার ওসিদের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনা পৌঁছেছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বর্তমান সরকারের একেবারে শেষ সময়ে এ নির্দেশ দেয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা কতোটা ন্যায় বিচার পাবেন, বিচার আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন সংখ্যালঘু সমপ্রদায় ও তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
২০১০ সালের ১২ এপ্রিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ শাহাবুদ্দিন, সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মনোয়ার হোসেন আখন্দ, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মীর শহীদুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শন করে নির্যাতিতদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা ও লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। দুইবছর আগে কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্ব-স্ব থানাকে অভিযোগের তদন্ত ও মামলা রুজু করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তখন কোনো মামলা রুজু করা হয়নি। বরং এ নিয়ে তদন্ত শুরু করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ধামাচাপা পড়ে যায় তদন্ত কমিশনের সকল কর্মকাণ্ড। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়া, সদর উপজেলার চরমোনাই, ভোলার লালমোহন, তজুমদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলায় সংখ্যালঘু সমপ্রদায় ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তদন্ত কমিশন গঠন করা হলে নির্যাতিতরা বিচারের আশায় বুক বেঁধেছিলো। কিন্তু সরকারের শেষ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনায় মামলা করে কোনো সুফল পাবে না বলে মনে করছেন গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ আসার পর শুধু বানারীপাড়া ও আগৈলঝাড়ায় দু’টি মামলা দায়েরের খবর পাওয়া গেছে। আর কোথাও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। অথচ ২০০১ সালে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার গ্রামের ৫০টি, রামানন্দেরআঁক গ্রামের ২৫টি, বাহাদুরপুর গ্রামের ৩০টি, বাকাল গ্রামের ২৫টি, পতিহার গ্রামের ৩০টি, গেরাকুল গ্রামে ২০টিসহ অসংখ্য পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো। নগর সংলগ্ন চরমোনাই গ্রামে সংখ্যালঘু এক কিশোরীকে রাতভর ধর্ষণ করেছিল বিএনপির দুর্বৃত্তরা।
