জেলায় চলতি মাসে গত ১৭ দিনে ৭ জন খুন হয়েছে। সর্বশেষ জেলা সদরের কবিরাজপুর গ্রামে গত শুক্রবার রাতে ইদ্রিস আলী (২৫) নামে এক সিএনজি চালককে গুপ্তঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। মুখের ভেতর মাটি ঢুকিয়ে ও গলায় গেঞ্জি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এভাবে একের পর এক গুপ্তহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলায় জনমনে ব্যাপক আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ রাতে চলাফেরা করতে সাহস পাচ্ছে না। অব্যাহত হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যা ঠেকাতে পুলিশ কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মধ্য শিলমান্দী গ্রামে গত ১৬ জুলাই রাতে ডাকাতদের হাতে নিহত হয়েছেন সুলতান (২৬) নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া একই দিনে জেলার মদনগঞ্জ সড়কের ৫ নং ব্রিজ এলাকায় ‘রহস্যজনক’ দুর্ঘটনায় নিহত হন নরসিংদীর পাওয়ালুম শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা মামুন মোল্লা। তিনি নরসিংদী শহরের চৌয়ালা মহল্লার আসলাম মোল্লার পুত্র। অপর এক ঘটনায় জেলার রায়পুরা উপজেলায় গত ১৮ জুলাই গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হয়েছে এক অজ্ঞাতনামা যুবক। পরে পুলিশ মেঘনা নদীর ফকিরের চর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে জেলার রায়পুরা উপজেলার খানাবাড়ি রেল ব্রিজ এলাকার একটি ডোবা থেকে গত ১৭ জুলাই ডালিম নামে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর তিন দিন আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। নিহত যুবক একই উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে। এছাড়া নরসিংদী শহরের টাওয়াদীতে গত ১৬ জুন প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন ফয়সাল নামে ব্রাহ্মন্দী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। এর আগে ৩ জুলাই নিহত হন নরসিংদী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র প্রদীপ দাস। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়।
নরসিংদী অতিরিক্ত জেলা সুপার সুব্রত হালদার বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আসামিদের ধরতে আমরা জোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটে চলছে ভয়াবহ সব অপরাধ। পুলিশ আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না।
