নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় শনিবার রাতে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী মিজানুর রহমান (২৪) খুন হয়েছেন। গতকাল রবিবার ময়না তদন্ত শেষে বেলা ১টার দিকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। নিহত মিজানুর রহমান আম্বরখানা শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকার জানু মিয়ার ছেলে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি প্রতিপক্ষের হামলায় ছুরিকাহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
মিজান খুনের পর পরই বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল কর্মীরা জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে হাউজিং স্টেটের মুখ পর্যন্ত বেশ কিছু দোকান-পাট ও গাড়ী ভাংচুর করে। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে নগর জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এ সময় দুই ছত্রদল কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে ব্যবসায়ীরাও দোকান-পাট ভাংচুরের প্রতিবাদে সুবিদবাজার পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নবনির্বাচিত কাউন্সিলর নজিবুর রহমান নীরু, বর্তমান কাউন্সিলর মহিউদ্দিন আহমদ লোকমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেখানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। সিলেট মেট্রোপলিটান পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার রোকন উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদল কর্মী মিজান খুনের ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আফতাব-পাঙ্গাস গ্রুপকে দায়ী করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা তা অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হয়েছেন মিজান। নিহতের পিতাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে যেন ভয় পাচ্ছেন। নিহত মিজানের পিতা জানু মিয়া জানান, তিনি ২৫ বছর ধরে সিলেটে অবস্থান করছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার জনপুর গ্রামে।
নিহত মিজান ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজানের গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে। মিজানের পিতা জানু মিয়া বলেন, শাহজালাল (রহঃ) দরগাহ গেইটে তার শিরনীর দোকানে মিজান তার সাথে কাজ করতো। শনিবার পরিবারের সদস্যরা এক সাথে বাসায় ইফতার করেন। তাকে নিয়ে মাগরিবের নামাজ জামাতের সাথে বাসায় আদায় করেন। এরপর সে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে তার ছেলেকে মৃত দেখতে পান।
বিমানবন্দর থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, ২৫/৩০ টি দোকান ভাংচুর হয়েছে। তিনি বলেন, মিজান নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওসি জানান, দাফন শেষে মামলা হবে।
