সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জিএসপি সুবিধা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৩
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কর্ম পরিকল্পনা পর্যালোচনায় মালিকপক্ষ ও সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র যে পারস্পরিক চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে সেজন্য আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তাদের কর্ম পরিকল্পনা আমরা নিশ্চই দেখবো। এ কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বুঝিয়েছে তারা জিএসপির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে চায়। এ কর্ম পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে দেখা হবে। যুক্তরাষ্ট্র যে কর্ম পরিকল্পনা দিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এ কাজটা এখন শুরু করছি তা নয়। কর্মপরিবেশ উন্নত ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আমাদের উদ্যোগ রানা প্লাজা ধসের আগেই গ্রহণ করা হয়। আগে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছিলো। পরে তা সমন্বয় করার জন্য সরকার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটির বৈঠকে সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শ্রম আইন সংশোধনসহ সকল বিষয় সিদ্ধান্ত হয় রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আগে। জিএসপি স্থগিত হওয়া সরকারের ব্যর্থতা নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণ এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আমাদের যে সফলতা তাতে জিএসপি স্থগিত হওয়াকে ব্যর্থতা বলবো না। দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে অনেক বিষয় নিয়ে সম্পর্ক হয়। এখন সকল বিষয়ে দুটি রাষ্ট্র একমত হবে তা নয়। যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করছে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো। তিনি বলেন, জিএসপি’র বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ২০০৭ সাল থেকে। প্রতি বছর এটির পর্যালোচনা হয়েছে। যেভাবে শুনানি হচ্ছিল তাতে এটি আবারো পর্যালোচনা হতো। কিন্তু পর্যালোচনার শেষ পর্যায়ে যখন ইতিবাচক কিছু হতে যাচ্ছিলো তখনই রানা প্লাজার ধস। এটি অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রীর নিবন্ধও প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ফোরামে বর্তমান সরকার ও শ্রম অধিকার নিয়ে যেসব কথা বলেছেন তা তিনি আগে কখনো বলতেন না। তাই সকলের কাছে স্পষ্ট যে তার বক্তব্যও প্রভাবিত করেছে। তবে রানা প্লাজা ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বেলারুশ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের বিষয়বস্তু জানাতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আমি ৬০০ দিন নয় ৫১৭ দিন সফরে ছিলাম দীপু মনি বলেছেন, তিনি গত সাড়ে চার বছরে ৬০০ দিন নয় বরং ৫১৭ দিন দেশের বাইরে সফরে ছিলেন। একটি দৈনিকে ‘সফরে দীপু মনির বিশ্ব রেকর্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে সাংবাদিকরা তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার বিদেশ সফর নিয়ে একটি সংবাদপত্রে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তা অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে যে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি তাও সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। একজন নাগরিক হিসেবে আমার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ বিষয়ে যা করণীয় তা করবো। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আমি ১৮৭টি বিদেশ সফর করেছি। কিন্তু এর প্রকৃত সংখ্যা হলো ১১৪টি। এর মধ্যে ভিভিআইপি সফর ছিলো ৩৬টি। দ্বিপক্ষীয় সফর ছিলো ৬২টি। কিন্তু ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দ্বিপক্ষীয় সফর ছিলো মাত্র ১৭টি। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আমি গত সাড়ে চার বছরে ৬০০ দিন দেশের বাইরে ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমি যাত্রা ও সফরের জন্য ৫১৭ দিন দেশের বাইরে ছিলাম। তিনি বলেন, যেকোন মন্ত্রীর বিদেশ সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হয়। যা হয়েছে অনুমতির মধ্যে হয়েছে। অনুমতির বাইরে কিছু হয়নি। এছাড়া সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, আমার সফরের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের তুলনা করা হয়েছে। তার সঙ্গে তুলনা করতে নয় এ প্রসঙ্গে কথা ওঠায় আমি বলতে চাই, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজস্ব একটি জেট বিমান আছে। তিনি চাইলে তার দেশের রাজধানী থেকে অন্য যেকোন দেশের রাজধানীতে সরাসরি যেতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পক্ষে সব সময় বিশেষ বিমানে যাওয়া সম্ভব হয় না। বাণিজ্যিক বিমানে যেতে হয়। অনেক দেশে পৌঁছাতে দুই, তিনবার ফ্লাইট পরিবর্তন করতে হয়। ভ্রমণে আমাদের অনেক বেশি সময় ব্যয় হয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় সারা বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসতে হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার দেশের বাইরে যেতে হয় না। গত সাড়ে চার বছরে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ৫০ দিনের বেশি থাকতে হয়েছে। তিনি বলেন, যেকোন সরকারের তুলনায় বতর্মান সরকারের আমলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সফল। তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ: বর্তমান সরকারের আমলেই তিস্তা চুক্তি হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকার তিস্তা চুক্তির বিষয়ে একমত। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। আমি আশাবাদী এটি সই হবে। তিস্তা স্বাক্ষরিত না হওয়াটা বাংলাদেশের ব্যর্থতা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এর আগে কোনো সরকার তিস্তা চুক্তির জন্য এগোয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এটিকে স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে এনেছে। এছাড়া সাংবাদিক সম্মেলনে অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকফা চুক্তির বিষয়ে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ অনুমতি দিয়ে রেখেছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।