পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ভারত সীমান্তে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) খানপুর বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি)। ভাঙ্গন প্রতিরোধ করতে না পারলে খানপুর বিওপি এলাকাসহ বাংলাদেশের একটি বড় ভূখণ্ড নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে এলাকাটির কর্তৃত্ব হারাবে বাংলাদেশ। প্রতিদিনই একটু একটু করে ভূখণ্ড চলে যাচ্ছে পদ্মার পেটে। এদিকে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহানগরীর পশ্চিমে সোনাইকান্দি, নবগঙ্গা ৫ নম্বর আই বাঁধ ও বুলনপুর ৩ নম্বর আই বাঁধ এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। শহররক্ষা বাঁধও হুমকির মুখে পড়েছে। জানা গেছে, ১৯৬৮ সালের ৪ মার্চ ভারতের সীমান্ত থেকে সাড়ে ৭ মিটার দূরে ১ দশমিক ২৩ একর জমিতে এই পোস্টটি চালু হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে পদ্মা বিওপির জমি গ্রাস করছিল; কিন্তু চলতি বর্ষায় চারদিক থেকে ভাঙন আরো ব্যাপক হয়েছে। গত মঙ্গলবারও বিওপির ১৬ মিটার এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়েছে। বাকি জমি বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে।
বিজিবির নায়েক সুবেদার খলিলুর রহমান বলেন, খানপুর বিওপির পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিমে অল্প এলাকা অবশিষ্ট রয়েছে। ৩টি মেইন পিলার ও ৬টি সাব-পিলারের ৫টি ইতোমধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়েছে। চলমান ভাঙন দ্রুত বন্ধ করতে না পারলে খানপুর বিওপি এলাকায় ভারতের কাছে বাংলাদেশ ভূ-খণ্ড হারাবে। পদ্মার অবস্থান রাজশাহী সীমান্তে ওপারে ভারতীয় অংশে চলে যাবে। এমনটি হলে পদ্মার রাজশাহী অংশে বাংলাদেশ একচ্ছত্র আধিপত্য হারাবে। অর্থাত্ ওই এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ আধিপত্য বিস্তার করবে। কারণ, পদ্মার পানি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় অংশে পৌঁছালে তা হবে যৌথ নদী। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদ্মার অর্ধেক এলাকা ভারতীয়রা অবাধে ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
চর খিদিরপুর গ্রামের বৃদ্ধ তাফাজ উদ্দিন বলেন, বর্তমান পদ্মার ঠিক মাঝে ছিল তার বাড়ি। অব্যাহত ভাঙনে কয়েকবার বসতবাড়ি সরিয়েছেন। সর্বশেষ ১৫ দিন আগেও তাকে আরেকদফা বাড়ি সরাতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে পদ্মা হঠাত্ উত্তাল হয়ে উঠেছে। ১৫/১৬ দিনে শতশত বিঘা জমি পদ্মায় বিলীন হয়েছে।
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, চলতি বর্ষায় চর খিদিরপুর ও খানপুর এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী বছর খানপুর বিওপির বর্তমান স্থানে আসতে হয়তো বিএসএফের অনুমতি লাগবে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ বলেন, ভাঙন বন্ধ এবং খানপুর বিওপি রক্ষায় তারা বেশি চিন্তিত। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ নবগঙ্গা ৫ নম্বর আই বাঁধ ও বুলনপুর ৩ নম্বর আই বাঁধ এলাকার সার্ভে রিপোর্ট ডিজাইন তৈরির জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে ভাঙন বন্ধে কাজ শুরু সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার সরকার মুহম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, দেশের ভূ-খণ্ড রক্ষার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে খানপুর বিওপি এলাকার ভাঙন প্রতিরোধ করা দরকার।
