খুলনার আদালতে মামলা জট

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৫
দীর্ঘদিন ধরে খুলনা জেলা ও দায়রা জজসহ ১৮টি আদালতে প্রায় ১২ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২ যুগ আগের মামলা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। মামলার বাদী, বিবাদী ও আইনজীবীরা জানেন না কবে এসব মামলার বিচার নিষ্পন্ন হবে। বিচারক স্বল্পতা, মামলার সাক্ষীর অভাবসহ মামলার বাদী আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে এত মামলা জমেছে। তবে নতুন করে খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত গঠিত হওয়ায় কিছুটা হলেও মামলার জট কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ৪টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ৪টি যুগ্ম জেলা জজ আদালতে প্রায় ৪ হাজার ফৌজদারী মামলা বিচারধীন রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের দায়ের করা প্রায় ২ হাজার মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও বিশেষ এই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে অসংখ্য নালিশী মামলা। বাকি ৯টি সহকারি জজ আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানী মামলার সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। বর্তমানে খুলনার প্রতিটি আদালতে বিচারের জন্য ১ হাজারের কিছু কম বা বেশি মামলা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি আদালতে প্রতি কার্যদিবসে বিচারের জন্য রাখা হয় ১৫ থেকে ২০টি মামলা। প্রতিটি মামলার বিচার কাজের জন্য ১ কার্যদিবস থেকে অন্য কার্যদিবসের মধ্যে প্রায় দেড় থেকে ২ মাস সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে মামলার বিচার কাজে বিলম্ব ঘটছে। ফলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তিসহ বাড়তি অর্থ খরচ হওয়ায় মামলা পরিচালনায় অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে বিচারাধীন মামলার সাক্ষীদের আদালতে হাজির হতে সমন বা ওয়ারেন্ট জারি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সময় মতো কার্যকর করছে না। আবার সাক্ষীদের খুঁজে না পাওয়া গেলে তার প্রতিবেদন আদালতে পৌঁছাতেও ২ থেকে ৩টি কার্যদিবস লাগে। এ কারণেও মামলার বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া মামলার বিচার বিলম্ব হওয়ার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামতও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ১০ বছর আগেও খুলনায় আদালতের সংখ্যা যা ছিল, আজও তাই রয়েছে। অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন অপরাধের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে মামলার সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি আদালত—এমনকি বিচারকের সংখ্যা। এ কারণে বিচার কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটছে। সরকার পক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট কাজী আবু শাহীন বলেন, মামলা জটের কারণ হলো বিচারক সংকট। এছাড়া নারী নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের সংখ্যা না বাড়ালে এই আদালতের মামলার জট কমানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সরকারি কর্মকর্তা, চিকিত্সক, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে সাক্ষী দিতে বারবার সমন দেয়া হলেও তারা আদালতে আসেন না। এ কারণেও মামলার দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হচ্ছে ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট অলোকা নন্দা দাস বলেন, আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এতে মামলার সংখ্যাও আগের তুলনায় কমেছে। তবে মামলার জট কমাতে আদালতের সংখ্যা বাড়ানো দরকার।