কালোব্যাজ পরে রাস্তায় গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীরা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৫
গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। শনিবার ২০ জুলাই গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার শেষ সময় থাকলেও সেটি দেয়া হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। অর্থমন্ত্রী ও গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন চেয়ারম্যান দেশের বাইরে রয়েছেন। কমিশনের অন্য কোন সদস্য এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে সম্মত হননি। এদিকে, গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে গতকাল কালোব্যাজ ধারণ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। ২০১২ সালের ১৬ জুন গঠিত হওয়ার পর প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য মোট চারবার সময় নেয় কমিশন। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় কমিশন তরফে।। তারপর থেকেই এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গতকাল রবিবার গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালোব্যাজ ধারণ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকের কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহজাহান, সিনিয়র জি এম সিদ্দিকুর রহমান, জি এম দুলাল চন্দ্র কর, জি এম হোসেন আলী, জি এম আকতার হোসাইন, জি এম আনোয়ার, জি এম মহিউদ্দীনসহ সকল নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় সমিতির সভাপতি শামসুল আলম ও সাবেক সভাপতি সগীর রশীদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে প্রধান কার্যালয়ের ন্যায় সারা দেশে ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কালোব্যাজ ধারণ করেছে। সভায় বক্তারা বলেন, অর্থমন্ত্রী আমাদের প্রাণপ্রিয় এই ব্যাংকটির ভবিষ্যত্ নির্ধারণের জন্য কমিশন গঠন করে দিলেন। আমরা চাই না, সহযোগিতার নাম করে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবকিছু কেউ লুটেপুটে নিক। প্রায় তিন যুগ ধরে গ্রামীণ ব্যাংক নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করতে পারলে এখনো পারবে। সরকারি সহযোগিতার নামে আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানকে ঊনিশ টুকরা করার প্রয়োজন নেই। তারা বলেন, আমাদের জীবন থাকতে এ ব্যাংককে সরকারি বা ঊনিশ টুকরো হতে দেব না এবং শেয়ারেও কোন পরিবর্তন মেনে নেব না। আমাদের চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গ্রামীণ ব্যাংককে ১৯ টুকরা করার সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতি চট্টগ্রাম জোন। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির চট্টগ্রাম জোনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. হারুন, মো. হুমায়ুন রশীদ, মো. শাহাদাত্ হোসেন, মো. ইব্রাহিম, মো. আহসান উল্লাহ, মো. মোশারফ, ইমন চৌধুরী, নাজমুল হোসেন প্রমুখ। আমাদের সিলেট অফিস জানায়, রবিবার বিকেলে সিলেট নগরীর উপশহরে গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয়ে একই দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কালোব্যাজ ধারণ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক বা কর্মচারী কেউই সরকারের কাছে সহযোগিতা চায়নি। কিন্তু সরকার ও অর্থমন্ত্রী এর পেছনে লেগে আছেন। একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে, সুনামগঞ্জে ও জগন্নাথপুর উপজেলায়। পিরোজপুর অফিস জানায়, সেখানে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মীরা বলেছেন, নোবেল বিজয়ী গ্রামীণ ব্যাংককে সহযোগিতার নামে কাউকে লুটে-পুটে খেতে দেয়া হবে না, এ ব্যাংককে ভেঙ্গে ফেলতে দেয়া হবে না। তারা গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত কমিশনের সুপারিশ বাতিলের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতির পিরোজপুর জোন শাখার সভাপতি মো. কবির হোসেন।