মিসরে নতুন একটি সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির আমলে করা সংবিধান সংশোধনে ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ির সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড। খবর বিবিসি ও এএফপির। সংবিধান সংশোধনে কমিটিকে একমাস সময় দেয়া হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন অধ্যাপক এবং ছয়জন বিচারক রয়েছেন। এছাড়া ৫০ সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেলে ধর্মীয় নেতা, রাজনীতিবিদ, শ্রমিক নেতা এবং সেনাবাহিনীর অফিসাররা থাকবেন। এছাড়া প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন যুবক অথবা একজন নারী থাকবে যারা মুরসি বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুরসির আমলে করা সংবিধান পূর্বেই স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনের রূপরেখা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের পর দেশটিতে পার্লামেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড সংবিধান প্রণয়নের এই উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মুরসিকে পুনর্বহালের দাবিতে কায়রোর নসর শহরে এখনো বিক্ষোভ করছে ব্রাদারহুড সমর্থকরা। গত শুক্রবার দলটি দেশ জুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী টেলিভিশনে এক ভাষণে বলেন, তিনি আশা করেন জাতীয় সংলাপে সব দল অংশ নেবে। তিনি বলেন, দেশে বিভক্তির সৃষ্টি করে আমরা সংবিধান রচনা করতে পারি না। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এদিকে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ শনিবার মিসর সফর করেছেন। মুরসির পতনের পর এই প্রথম আরব বিশ্বের কোনো নেতা মিসর সফর করলেন। মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসির হাজার হাজার সমর্থক তৃতীয় সপ্তাহের মতো কায়রোর রাবা আল-আদাবিয়া স্কয়ারে সমবেত হয়েছে। তারা ওই এলাকায় রীতিমতো তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়েছে। রাত-দিন তারা ওই এলাকায়ই থাকছে। রমজানের সেহরি ও ইফতারও করছে এই তাঁবুতেই। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের চাহিদার যোগান দিতে আল-আদাবিয়া স্কয়ারে বসেছে অনেক সবজি স্টল, ফ্লাগ বিক্রির দোকান, বিশ্রাম কেন্দ্রসহ নানা অস্থায়ী স্থাপনা। সব মিলে নগরীর এই এলাকাটি গ্রাম্য বাজারের রূপ নিয়েছে। আর এতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে মুরসি সমর্থকদের বিরুদ্ধে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তিনি বর্তমানে সেনা ব্যারাকে বন্দী।
