রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত চার মেয়র ও কাউন্সিলররা গতকাল রবিবার শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার মেয়রকে এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবুল আলম মো. শহীদ খান শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখে জনগণের সেবা করার জন্য চার সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত জনপ্রতি-নিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলের প্রতি আপনাদের আনুগত্য থাকবেই, তবে জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য আপনারা যে শপথ আজ নিলেন এর চেতনা অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত মেয়রদের সাফল্য কামনা করে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মহাজোট সরকারের সাড়ে চার বছরে চার সিটিতে যে উন্নয়ন হয়েছে, এর আগে কখনো হয়নি। আমি আশা করি, আপনারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। দলীয় সরকারের অধীনেও যে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব সদস্য সমাপ্ত চার সিটিতে সরকার তা প্রমাণ করেছে।
এর আগে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথের দলিলে সই করে তা চার মেয়রের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। শপথ নেয়ার পর চার মেয়র মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক শহরের মেয়র ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলাদাভাবে ছবি তোলেন। চার শহরের নারী কাউন্সিলরদের সঙ্গেও আলাদাভাবে ছবি তোলেন তিনি। শপথ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত চার সিটি করপোরেশনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। সিলেটে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, বরিশালে আহসান হাবিব কামাল, রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হন। আর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১১৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মোট ৩৮ জনের নামের তালিকা গত ২৬ জুন প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী, ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।
