সাংবাদিক মারধর

জামিন পেলেন এমপি রনি

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৮
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ সনি ও ক্যামেরাম্যান মহসিন মুকুলকে মারধরের ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা হত্যা প্রচেষ্টার মামলায় সরকার দলীয় সাংসদ গোলাম মাওলা রনিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিবার সাংসদ রনি আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদন করেন। আসামির আইনজীবী কবির হোসেন ও তাজউদ্দিন আদালতে শুনানিতে বলেন, সাংবাদিক মারধরের ঘটনার সঙ্গে রনি জড়িত নন। তিনি সরকারের একজন সম্মানিত সংসদ সদস্য ও ঢাকা বারের একজন আইনজীবী। তার পলাতক হবার কোন সম্ভাবনা নাই। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে জামিন দেয়া হোক। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম এ আদেশ দেন। গত শনিবার হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভাংচুরের অভিযোগে বিকালে সাংসদ রনিসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন ওই টেলিভিশনের সহকারী ব্যবস্থাপক ইউনুছ আলী। এজাহারে বলা হয়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর ৩৩ তোপখানা রোড মেহেরবা প্ল¬াজার ১০ তলায় অবস্থিত সাংসদ গোলাম মাওলা রনির অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ সনি ও ক্যামেরাম্যান মহসিন মুকুলকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেন। এসময় রনির নেতৃত্বে ক্যামেরা ও বুম ভাংচুর করে ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে রাখা হয়। এতে গুরুত্বর আহত মুকুল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ প্রচারিত অপরাধমূলক অনুসন্ধানভিত্তিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘তালাশ’ এর সংবাদ সংগ্রহের জন্য কাজ করছিল তাদের টিম। সংসদীয় এলাকা থেকে দুই কোটি টাকার একটি ঘুষ কেলেঙ্কারির খবর ছিল এই টিমের কাছে। যার প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরেই কাজ করছিল টিমটি। মেহেরবা প্ল¬াজার কাছাকাছি স্থান থেকে গোপন ক্যামেরায় অফিসের কার্যক্রম ধারণ করতে যায় টিমটি। কিন্তু তা না পারায় ওই টিমটি অফিসের কাছে গেলে রনির সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় রনি নিজেও সাংবাদিকদের মারধর করেন। অন্যদিকে চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে হত্যাচেষ্টা এবং অপহরণের অভিযোগ তুলে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে রাতে পাল্টা মামলা করেন গোলাম মাওলা রনি। সাংবাদিক মারধরে তদন্ত শুরু ঃ দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় গতকাল তদন্ত শুরু করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে থানায় দায়ের করা দুইটি মামলারই সুষ্ঠু তদন্তের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডিএমপি রমনা জোনের ডিসি মারুফ হাসান মামলা দুইটি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ মামলা দায়ের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সাংবাদিক পেটানোর রেকর্ড করেছেন রনি ঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের দুই সাংবাদিকই নয়, এরআগে গত সাড়ে চার বছরে পটুয়াখালিতে পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে রনির হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ জন সাংবাদিক। ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টম্বর পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গলাচিপা যাওয়ার পথে হরিপুর ফেরিঘাটে রনির ক্যাডাররা সমকালের প্রতিনিধি মুফতি সালাহউদ্দিন, বাংলাভিশন প্রতিনিধি আবু তাহের বাপ্পা, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শংকর লাল দাস, তত্কালীন চ্যানেল ওয়ান প্রতিনিধি খন্দকার দেলোয়ার জালালী ও দিগন্ত টিভি প্রতিনিধি শিহাবের ওপর হামলা করে।