উচ্ছ্বাসে ভাসছে ইংল্যান্ড

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২২:১৯
‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি; সত্যি এটা ছিল অসাধারণ এক জয়।’—ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলছিলেন ইংলিশদের জয়ের নায়ক জো রুট। আর শুধু জো রুটই নন, গোটা ইংল্যান্ডই এখন আনন্দে ভাসছে। আর আনন্দটাও যথেষ্ট যৌক্তিক। ট্রেন্টব্রিজের পরে লর্ডস টেস্টেও অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে মর্যাদার লড়াই অ্যাশেজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। ৫৮৩ রানের বিশাল টার্গেটের পিছনে ছুটে জয় পাওয়া কোন সহজ কাজ নয়। তাই চতুর্থদিনে এগিয়ে ছিল ইংলিশরাই। আর তাদের রাস্তা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে দিলেন দলের বোলাররা। গ্রায়াম সোয়ান, টিম ব্রেসন্যান আর জেমস অ্যান্ডারসনদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা। তাই সব শেষে ৩৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের। আর ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও দুই উইকেট পাওয়ায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেলেন জো রুট। ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি দিয়ে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম উঠিয়েছেন জো রুট। তবে ‘লর্ডস’ নামের আগেও অ্যাশেজকে এগিয়ে রাখছেন রুট, ‘লর্ডসে সেঞ্চুরি করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর থেকেও বড় ব্যাপার হল, অ্যাশেজে দলের প্রয়োজনের সময় রান পেয়েছি। সব মিলিয়ে আমি তাই সন্তুষ্ট। নিজেকে প্রমাণের জন্য এর থেকে ভাল সুযোগ আর হতে পারে না। আমি আমার সাধ্যের সবটুকু দলকে দিয়েছি। তাই সব মিলিয়ে আমি খুশি।’ ইংল্যান্ডের দারুণ পারফরম্যান্সের সাথে সাথে এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের দুর্দশা। একটা ছোট তথ্য দিলেই ব্যাপারটা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। দলটির সব থেকে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান মনে করা হয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে। অথচ চলমান অ্যাশেজে এখন পর্যন্ত তার রান মাত্র ১০২। অধিনায়ক নিজেও স্বীকার করে নিচ্ছেন নিজেদের দুর্বলতার কথা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমাদের পারফরম্যান্সটা তেমন বলার মতো কিছু হচ্ছে না। ইংল্যান্ড ভাল দল। আর তারা নিজেদের প্রত্যাশামতো মাঠে খেলতে পারছে। তাই তাদের জয় পাওয়াটা যথেষ্ট যৌক্তিক।’ নিজেদের পরাজয়ের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে অজি অধিনায়ক আরও বলেন, ‘প্রথম ইনিংসের পরই আসলে আমাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। এরপরে আসলে আর ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। আর ব্যাটিংয়ে ভাল করতে না পারার কারণে বোলারদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আর পরাজয়ের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়েও ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন ক্লার্ক, ‘আরও তিনটি টেস্ট বাকি। তাই এখন আমাদের ভাল খেলার কোন বিকল্প নেই। নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে লড়াই করতে হবে। আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হবে। নিজেদের রানের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। তৃতীয় টেস্টের আগে এটাই এখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ গোটা ইংল্যান্ডই যখন আনন্দে ভাসছে তখন ইংলিশ অধিনায়ক জানালেন, এই জয়ের জন্য মূলত দারুণ ‘টিম-কম্বিনেশন’ই মূল ভূমিকা রেখেছে, ‘দলের প্রতিটি সদস্যই জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল। আমরা পরিশ্রম করেছি এবং সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছি। বেল আর রুট ভাল ব্যাটিং করেছে। আর সোয়ানের কথা নতুন করে কি আর বলবো। সব মিলিয়ে দিনটি ছিল আমাদের।’ আগামী এক আগস্ট থেকে মাঠে গড়াচ্ছে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ান দলের সামনে। হারলে অ্যাশেজটা হয়ে যাবে ইংলিশদের। আর জিতলে বেঁচে থাকবে সুযোগ। ক্লার্করা কি পারবেন ম্যানচেস্টার টেস্ট জিতে ইংলিশদের উত্সবে বিরতি দিতে! স্কো র কা র্ড ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৩৬১ (অল আউট) অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১২৮ (অল আউট) ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৪৯/৭। অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ওয়াটসন এলবি. ব অ্যান্ডারসন ২০ রজার্স ব সোয়ান ৬ খাজা ক অ্যান্ডারসন ব রুট ৫৪ হিউজ এলবিডব্লিউ ব সোয়ান ১ ক্লার্ক ক কুক ব রুট ৫১ স্মিথ ক প্রিয়র ব ব্রেসনান ১ হাডিন এলবিডব্লিউ ব সোয়ান ৭ আগার ক প্রিয়র ব ব্রেসনান ১৬ সিডল ব অ্যান্ডারসন ১৮ প্যাটিনসন এলবি. ব সোয়ান ৩৫ হ্যারিস অপরাজিত ১৬ অতিরিক্ত ১০ মোট (অল আউট, ৯০.৩ ওভার) ২৩৫ উইকেট পতন: ১-২৪(ওয়াটসন), ২-৩২(রজার্স), ৩-৩৬(হিউজ), ৪-১৩৪(ক্লার্ক), ৫-১৩৫(খাজা), ৬-১৩৬(স্মিথ), ৭-১৫৪(আগার), ৮-১৬২(হাডিন), ৯-১৯২(সিডল), ১০-২৩৫(প্যাটিনসন)। বোলিং: অ্যান্ডারসন: ১৮-২-৫৫-২, ব্রড: ২১-৪-৫৪-০, সোয়ান: ৩০.৩-৫-৭৮-৪, ব্রেসনান: ১৪-৮-৩০-২, রুট: ৭-৩-৯-২। ফল: ইংল্যান্ড ৩৪৭ রানে জয়ী। টস: ইংল্যান্ড সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০ তে এগিয়ে। ম্যাচ সেরা: জো রুট।