মেধাবীদের গল্প

স্বপ্ন আর বাস্তবতা মেলাতে চায় শিমুল রানি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ১৮:৪৬
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরাও পিছিয়ে নেই অন্যদের চেয়ে, আগের তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশি মেয়েরা ভর্তি হয়। শিমুল রানি পাল অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সুপরিচিত মেধাবী মুখ। পটুয়াখালী সদরে বেড়ে ওঠা শিমুল পটুয়াখালী সরকারী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ এবং ২০০৮ সালে পটুয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট ছোট কিছু আশা, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ক্লাস শুরু করেছিল শিমুল রানি। সে মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হতে পেরেই জীবনের টারনিং পয়েন্ট ঘুরিয়ে দিল। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্স্যবিজ্ঞান গ্রাজুয়েটদের সংখ্যায় কম থাকায় দেশে ও বিদেশে চাহিদা বেড়েই চলছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ থাকায় এ বিষয়ে ভাল ফলাফলধারী মেধাবীদের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া দেশে ও দেশের বাহিরে ফিশারিজ রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বিসিএস ক্যাডারসহ অনেক ভাল চাকরির সুযোগ রয়েছে। অনার্সে ক্লাস শুরুর দিকে অনেক সংশয় আর দ্বিধা ছিল শিমুলের মনে। নতুন পরিবেশ নতুন বন্ধুরা চারদিকে যেন সবকিছু রঙিন। কয়েকদিন পরে নিজের মনটাকে মানিয়ে নিল সব নতুনের সাথে। মনোযোগ আর সাহসের দৃঢ়তার পরিচয়ে এগিয়ে নিতে থাকল নিজেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া ও গবেষণার কাজ করে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা ছিল জীবনের প্রধান স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অনার্সে পড়াশুনায় অত্যন্ত মনযোগী ছিল। পড়াশুনায় একটু মনযোগী হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল ফলাফল করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর, শিক্ষকরা অনেক সাহায্য করেন,তাদের নিয়মিত দিক নির্দেশনা ভাল ফলাফল করতে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে শিমুলকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সে পেয়েছিল বিশেষ কিছু বন্ধু যাদের সাথে প্রায়ই আড্ডা দিতে পছন্দ করত। তাছাড়া গ্রুপ স্টাডি তো বন্ধু ছাড়া চলেই না। দেখতে দেখতে চার বছর কেটে গেল, সিজিপিএ ৩.৮২ পেয়ে শেষ হল অনার্স। অনার্স শেষ হওয়ার পর বন্ধুরা অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে কিন্তু এখনও অনেক মনে পড়ে। মায়ার বাঁধনে এখানেই মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে সে কারণ চেনা পরিবেশ, চেনা মানুষ ও প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ। বর্তমানে শিমুল মাস্টার্সে পড়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্টে গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেছে। অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা করে জীবন প্রতিষ্ঠায় সে সদা ব্যাকুল। তার মতে প্রবল ইচ্ছাই পারে মানুষকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। সে জীবনের লক্ষ্যকে ইঙ্গিত দিয়ে বলে, এখান থেকেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে চাই। চাই জীবনে এগিয়ে যেতে, দেশের জন্য কিছু করতে।