হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন আমাদের

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ১৮:৪৬
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা বিভিন্ন শিক্ষার্থী স্বপ্নের ক্যাম্পাস দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে গর্ব অনুভব করছে। কিন্তু অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেও যে আবাসিক সুবিধা পাবে না এ কথা জেনে তারা প্রথমেই হতাশ হয়। পরে তা আবার বেমালুম ভুলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেই ছোট-বড় নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও আমাদের স্বপ্ন নিঃসন্দেহে আকাশছোঁয়া। আর তা হলো বিবেকবান মানুষ হিসেবে নিজেকে খুঁজে পাওয়া এবং নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠার করবার চেষ্টা করা। সুখ-দুঃখ নিয়েই আমাদের ছাত্রজীবন। সুখ যেমন সব সময় থাকে না, তেমনি দুঃখ বলে-কয়েও আসে না। আর এসবই রয়ে যায় স্মৃতির পাতায়। ক্যাম্পাসের একটি গল্প না বললেই নয়। শশী এবং পপি দুজনই পড়ছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিস (বিএস) অনুষদে। শশী আর পপির মধ্যে সম্পর্কটা একটু আলাদা। যা দেখে ক্যাম্পাসের সিনিয়র-জুনিয়র সবাই কিছু শিখতে চায়। তারা সব সময় পড়াশোনা, সহপাঠীদের সাথে কুশল বিনিময়, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা, রাগ-অনুরাগ, আর তাদের খুনসুটিগুলোকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ক্যাম্পাসে তাদের এই জীবনের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি অবারিত ডাক দিয়ে উপস্থিত হয় নানা সময়। সেই সময়ের মধ্যে যেন শ্রেষ্ঠ সময় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। এ সময় মানুষ পরিপূর্ণ যৌবন ধারণ করে। অসাধারণ সব স্বপ্ন তারা লালন করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শরীর আর মন থাকে তারুণ্যে ভরপুর। ফলে উত্সাহ, উদ্যম, আনন্দ, স্বপ্ন সবকিছু মিলিয়ে বিচিত্র এক জীবন অতিক্রম করি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। ক্যাম্পাসের নানা প্রসঙ্গে এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর কৃষিবিদ ড. সাইফুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা মানেই জীবন। একটি শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রয়োজন আড্ডা আর সহশিক্ষা কার্যক্রমের, যা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববান হতে শেখায়। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে প্রয়োজন বন্ধুসুলভ সম্পর্ক। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়ানো উচিত কাউন্সেলিং ব্যবস্থার। যার ফলে বাড়বে মানসিক প্রশান্তি এবং গড়ে উঠবে লিডারশিপ।’ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে এক রকম ভাবনা, মাঝামাঝি সময়ে এসে গভীর হয় এই ভাবনা। আর শেষ পর্যায়ে তরুণদের মাঝে চিন্তা-ভাবনায় বিস্তর পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এই তরুণরাই কাল দেশের শীর্ষস্থানীয় আসনে আসীন হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে। তাই প্রত্যাশা তাদের পিতা-মাতাসহ গোটা দেশবাসীর। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার পাশাপাশি মুক্ত সৃজনশীলতা চর্চা প্রতিযোগিতা, জ্ঞানের সমুদ্রে অবগাহন করা, মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে দিন দিন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।