টানা পাঁচ কর্মদিবস ধরে শেয়ারবাজারে বড় দর পতনের ফলে উভয় শেয়ারবাজারের সূচক অনেক কমে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ডিএসইএক্স চার হাজারের নিচে নেমে এসেছে। আর পুরনো সূচক ডিজেন নেমে এসেছে চার হাজার দুইশ’তে। এ ৫ দিনে ডিএসই’র সূচক কমেছে প্রায় সাড়ে ৫শ’ পয়েন্ট। এদিকে সূচক কমার পাশাপাশি লেনদেনও অনেক কমে গেছে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১২৫ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৯২৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সাধারণ মূল্যসূচক ১৩৪ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ২২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৩৮ কোটি ৯০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৬ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৮৭টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ২৪১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি কোম্পানির শেয়ারের।
আইডিএলসি’র দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কয়েকদিনের দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি হওয়ায় বিক্রয়ের চাপ বেড়ে গেছে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা করার প্রবণতায় লেনদেনও কমে গেছে। গত এক সপ্তায় গড়ে যে লেনদেন হয়েছে সে তুলনায় গতকাল প্রায় ৪২ শতাংশ কম লেনদেন হয়েছে ডিএসইতে।
এদিকে অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে বিএসইসি’র সামনে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভশেষে বিএসইসির কাছে ৮ দফা দাবি পেশ করেন বিনিয়োগকারীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থায়ী স্থিতিশীলতায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইপিও অনুমোদন আগামী ৬ মাস বন্ধ রাখা, বাজারের সরবরাহ ও চাহিদার প্রেক্ষিতে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির মধ্যে থেকে প্রতিমাসে ১টি আইপিও অনুমোদনের ব্যবস্থা করা, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও এ্যাপোলো ইস্পাত লিমিটেডের আইপিও সাবস্ক্রিপশনের অনুমোদন সূচক ৬ হাজারে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা, পুঁজিবাজারে বিএবি’র স্থিতিশীলকরণ ফান্ড, বিশেষ স্কীম, এবং প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত কার্যকর এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বাজারের বাস্তবতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআরআর এবং এসএলআর এর হার কমানো, কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নে অবিলম্বে ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট ও বাইব্যাক আইন বাস্তবায়ন করা, মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর উন্নয়নে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নেয়াসহ ওটিসি মার্কেটে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে যে সকল কোম্পানি উত্পাদনে রয়েছে সেগুলো মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।
