ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলগামী নৌ-যাত্রীদের জন্য ৬ আগস্ট থেকে স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে। পাশাপাশি ঈদ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত অত্যাবশ্যকীয় কর্মকর্তা,কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দকার।
মঙ্গলবার বিআইডব্লিউটিএ ভবনে আয়োজিত ঈদে নৌ-পথে যাত্রী ব্যবস্থাপনায় উপর আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ে প্রস্তুতি সভায় আসন্ন ঈদুল-ফিতর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠকে বিআই-ডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান জানান যে, যাত্রীদের অধিকতর নিরাপত্তা দেয়ার জন্য নৌরুটে বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনীর তদারকি বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত নৌ-যান উদ্ধারে কোরিয়া থেকে সদ্য সংগৃহীত দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরাতন উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও হামজাকেও রাখা হয়েছে কিশোরগঞ্জ ও আরিচাতে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বালুবাহী বাল্কহেড ঈদের ৫দিন আগ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখা হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঈদে ঘরমুখী নৌ-যাত্রীরা যাতে অতিরিক্ত ভাড়ার শিকার না হয়ে বরং কিছুটা কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের এমন অনুরোধের প্রেক্ষিতে লঞ্চ মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরেও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করা হবে না। তবে ঢাকা-বরিশাল রুটের যাত্রীদের জন্য ভাড়া কিছুটা কমানো হবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১৮ টাকা কমিয়ে ২৪০ টাকা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়াও যাত্রীদের ফেরত আনার জন্য ১৩ তারিখ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত স্পেশাল সার্ভিস চালু থাকবে। যাত্রীদের চাপের উপরে ভিত্তি করে স্পেশাল সার্ভিস চালু করা হবে। তবে আশার কথা হলো, এ বছর নতুন করে ৭টি নতুন লঞ্চ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সকালে ঢাকা ও বরিশাল রুটে যাত্রী চলাচলের জন্য দুটি লঞ্চেরও অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে ৩২টি বিষয়ের উপর আলোচনার জন্য কার্যপত্র উপস্থাপন করেন বিআইডব্লিউটিএ’র সচিব মাহবুবুল আলম।
সভায় অন্যদের মধ্যে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য প্রকৌশল ফিরোজ আহমেদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, কোস্টগার্ড, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
