দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাপান্তরের লক্ষ্যে প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে “খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উত্পাদন বৃদ্ধি” নামের একটি প্রকল্প পাস করেছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ২৫ শতাংশ সরকারি বিনিয়োগে ৩২ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। দেশে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা অব্যাহতভাবে কমে যাওয়ার কারণে জমি চাষ, শস্য রোপণ, কর্তন ও মাড়াইসহ যাবতীয় কাজে কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় গতকাল প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পসহ গতকালের একনেক বৈঠকে মোট ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৭৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ২৭০ কোটি টাকা বৈদেশিক সাহায্য থেকে যোগান দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম অনুমোদিত প্রকল্পসমূূহের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উত্পাদন বৃদ্ধি প্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়, দ্বিতীয় পর্যায়ের এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৭২ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে শস্য উত্পাদন খরচ হ্রাস, শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি ও শস্যের কর্তন পরবর্তী অপচয় ১৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জুলাই ২০১৩ থেকে জুন ২০১৮ মেয়াদে ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর আগে প্রথম পর্যায়ের ৩৫টি জেলার কৃষকদের মাঝে প্রায় ৪০ হাজার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়।
এছাড়াও ৪০টি মার্কেট ও ৮০টি কালেকশন সেন্টার নির্মাণের উদ্দেশ্যে ‘কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামে আরও একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মার্কেট সংযোগদানকারী ১৪০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া, ২০০০ হেক্টর জমির সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একশ’ ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইউএসএআইডি’র কাছ থেকে ১২৬ কোটি টাকার অনুদান পাওয়া যাবে। এলজিইডি কুষ্টিয়া জেলা ছাড়া খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলা এবং ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী ও শরিয়তপুর জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হল- ১০২ কোটি ব্যয়ে জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইন্?স্টিটিউট স্থাপন (১ম পর্যায়) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প, ২৬ কোটি ব্যয়ে করতোয়া নদীর ডান তীর সমন্বিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প, ১৬৮ কোটি ব্যয়ে সাসেক সড়ক যোগাযোগ স্থাপন: বেনাপোল ও বুড়িমারি স্থল বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে রিকাবীবাজার-রামপাল-দিঘীরপাড়-বাংলাবাজার-মুন্সিগঞ্জ সদর- নয়াগাঁও-মুক্তারপুর সড়ক (নয়াগাঁও হাসপাতাল সংযোগ সড়কসহ) উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।
