ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী ভারতের এখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজকে আর যাই হোক কোনো চ্যালেঞ্জিং সিরিজও বলা যায় না। কিন্তু নিজেদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণেই এই সিরিজটা ভারতের জন্য অন্যরকম একটা পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। আজ থেকে হারারেতে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটা বলা হচ্ছে বিরাট কোহলি নেতৃত্বাধীন ‘ভবিষ্যত্ ভারত’ দলের পরীক্ষা। এই কথার পক্ষে অন্তত একটা তথ্য জেনে রাখতে পারেন—এই সিরিজে ভারতের ১৫ সদস্যের যে স্কোয়াড, এর মধ্যে পাঁচজন খেলোয়াড়ই অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন!
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের জন্য আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজটা মূলত একটা উত্সবের উপলক্ষ। নব্বইয়ের দশকে জিম্বাবুয়ে ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল খুব নিয়মিত একটা ব্যাপার। কিন্তু গত এক দশক দুই দল দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজ খেলেনি। জিম্বাবুয়ের সোনালী প্রজন্মের বিদায়ের পর এই প্রথম তারা দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে। ২০০২ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে ভারত সফর করেছিল। আর ভারতীয় খেলোয়াড়দের ঘরের মাটিতে পাচ্ছে জিম্বাবুয়ে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের দল সেবার ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ফিরেছিল।
সেই জিম্বাবুয়ের দলের তারকারা; অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলরা এখন আর নেই। সে হিসেবে ভারতেও নেই বর্তমানের শীর্ষ তারাকারা কেউ। ভারত এক কথায় একটা যুব দল পাঠাচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজে। দলে ‘তারকা’ বলতে অধিনায়ক কোহলি নিজে, সুরেশ রায়না, শিখর ধাওয়ান, দীনেশ কার্তিক, রবীন্দ্র জাদেজা, চেতেশ্বর পুজারা, রোহিত শর্মারা। এর বাইরে মোহাম্মদ সামি, পারভেজ রসুল, আজিঙ্কা রাহানে, মোহিত শর্মা, জয়দেব উনাদখাটরা আছেন সম্ভাবনাময় তরুণ হিসেবে।
এই সিরিজে পারভেজ রসুল ও মোহাম্মদ সামির মতো বহুল আলোচিত দুই ক্রিকেটারের পরীক্ষা দেখে ফেলতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বিরাট কোহলির নেতৃত্বেরও একটা বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এখানে। যদিও ক্যারিবীয় সফরের ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালের আগ পর্যন্ত বিরাটই ছিলেন ভারতের অধিনায়ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইনালে মহেন্দ্র সিং ধোনি এসে জয়টা এনে দেয়ায় ওই ট্রফিটাকে আর কোহলির জীবনবৃত্তান্তে যোগ করা যাচ্ছে না। ফলে তাকে এখানেই সাফল্য এনে পাস করতে হবে।
ভারতের জন্য এটা বছরের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কিঞ্চিত্ প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছেন অনেকে। প্রায় একই কন্ডিশনে দলের তরুণরা কিছুটা অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলে সেটা সামগ্রিকভাবে তাদের উপকারে আসবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিপরীতে জিম্বাবুয়ের কাছে এটা মূলত বড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার এবং অঘটন ঘটিয়ে চমকে দেয়ার একটা সুযোগ। জিম্বাবুয়ের তরুণ ও মেধাবী দলটা এই সিরিজে একটি-দুইটি ম্যাচে অন্তত চমকে দেবে এমন স্বপ্ন দেখাও খুব অন্যায়ের কিছু নয়। বিশেষ করে ইনফর্ম তরুণদের সঙ্গে ইনজুরি কাটিয়ে রে প্রাইসের মতো অভিজ্ঞরা দলে ফেরায় তাদেরও শক্তি একেবারে কম নয় এখন।
আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলবে দুই দল হারারেতে। একই ভেন্যুতে ২৬ ও ২৮ তারিখ হবে আরও দুইটি ওয়ানডে। এরপর বুলাওয়েতে আগস্টের ১ ও ৩ তারিখ সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডে।
