দল নয়, খরচ কমাবে বিপিএল

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২২:০৭
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে শুরু থেকেই সবচেয়ে বড় সমালোচনা হল—বাংলাদেশের বাজারের তুলনায় অবাস্তব টাকার ছড়াছড়ি এখানে। কার্যত দেখা গেছে, সেই অবাস্তব অংকগুলোই বিপিএলকে অনিশ্চয়তার ভেতরে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি), খেলোয়াড়দের বিশাল বিশাল এই কাগুজে পাওনা পরিশোধ করতে না পেরে দলগুলোও এখন আছে মহাবিপাকে। আর এসব কারণেই আগামী বিপিএল ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে গভর্নিং কাউন্সিল। গতকাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা নিশ্চিত করলেন, আগামী মৌসুমে নিলাম ও দলগুলোর বার্ষিক ফিতে বড়সড় পরিবর্তন আনার ব্যাপারটা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন তারা। এখনও পর্যন্ত বিপিএলের দ্বিতীয় মৌসুমের নানাপক্ষের টাকা পরিশোধ হয়নি। বিসিবি যেমন দলগুলোর কাছ থেকে এখনও পাওনা বুঝে পায়নি। তেমন বেশিরভাগ দলই খেলোয়াড়দের নিয়মমতো পাওনা শোধ করছে না। এ অবস্থায় অনেকগুলো দলের মালিকানা আসলে বাতিল হয়েই যাওয়ার কথা। কিন্তু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল আরও একটু সময় দিতে চাচ্ছে দল মালিকদের। সেটারই অংশ হিসেবে দলগুলোর কাছ থেকে শেষ কথা শোনার জন্য আলাদা আলাদা করে তাদের সঙ্গে বসার কথা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের। আফজালুর রহমান সিনহা গতকাল বললেন, এই বৈঠকগুলো শেষ হওয়ার পরই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন, কোনো মালিকানা বাতিল হবে কি না, ‘দুই-তিনটি মালিকানা বাতিলের গুঞ্জন শোনা গেলেও এরকম কিছু ঠিক হয়নি। এটা আসলে আলোচনার পর ঠিক হবে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে আলোচনাগুলো শুরু হবে। তারপর বোঝা যাবে, ঠিক কী হচ্ছে।’ তবে আলোচনার পর যাই ঠিক হোক, আপাতত একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে, আগামী বছর বিপিএলের এই কোটি কোটি টাকার বাজেট আর থাকছে না। মূলত শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এসএলপিএল) এ বছরের আসর বাতিল করে দেয়ার পর বিসিবির ওপর এই চাপটা বেশি তৈরি হয়েছে। এসএলপিএলের মূল বাজেট বিপিএলের চেয়ে অনেক কম ছিল। তারপরও তাদের আটটি দলই পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি মৌসুমে অন্তত লিগ বাতিল করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কান বোর্ড। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে বিসিবি এমন কিছু করুক, এরকম একটা চাপ ছিল। অন্ততপক্ষে বিপিএলের দল কমিয়ে আনা হবে, এমন আলোচনা ছিল। তবে আফজালুর রহমান সিনহা বলছেন, দল কমানো সম্ভবত হবে না বা লিগও বাতিল করা হবে না। বদলে অবাস্তব ব্যয়ের জায়গাগুলো কমিয়ে আনা হবে, ‘আসলে বিপিএলের শুরু থেকে যে বিপুল ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটা আমাদের বাজার সমর্থন করে না। যে কোনো বিনিয়োগকারী রিটার্ন না পেলে বিনিয়োগে সমস্যা করবেই। ফলে আমাদের হয়তো দলগুলোর বার্ষিক ফি কমাতে হতে পারে। এ ছাড়া নিলামে আমরা পরিষ্কার একটা সীমা দিয়ে দিতে পারি, এর ওপর কোনো খেলোয়াড়কে কেনা যাবে না। ফলে অনেক বেশি বাস্তবানুগ হবে ব্যাপারটা।’