প্যাসিফিক রিম নিয়ে মাতামাতি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২০:০১
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ও অ্যাকশননির্ভর সিনেমা ‘প্যাসিফিক রিম’ জাপানি অ্যানিমের হলিউডি সংস্করণ। জাপানি সিনেমার একটা বড় অংশজুড়ে আছে ‘কাইজু’ মুভি। জাপানি শব্দ কাইজুর বাংলায় অর্থ দাঁড়ায়, ‘এক ধরনের অদ্ভুত দৈত্যাকার পশু’, যার একটি উত্কৃষ্ট হলিউডি উদাহরণ হলো ‘গডজিলা’। অন্যদিকে ‘নিনজা রোবটস’ নামের অ্যানিমেশন সিরিজের সঙ্গে পরিচিত আমরা অনেকেই। একদল মানুষ-নিয়ন্ত্রিত রোবটের অ্যাকশন নিয়ে নির্মিত অ্যানিমেশনটি একসময়ের জনপ্রিয় সিরিজ বলে বিবেচিত। আপনি যদি এই দুই রকম অ্যানিমেশন মুভির সঙ্গেই পরিচিত হয়ে থাকেন, তবে বুঝতে পারবেন, ‘প্যাসিফিক রিম’ মোটামুটি সে রকমই। প্যাসিফিক রিম সিনেমার গল্প ‘প্যাসিফিক রিম’-এর গল্প সহজ সুন্দর ও কিছুটা ব্যতিক্রমী। এর সঙ্গে অসাধারণ অ্যাকশনের জন্য আপনার কাছে অনেক দ্রুতগতির বিনোদন মনে হবে সিনেমাটিকে। সমুদ্রের নিচ থেকে উঠে আসা এলিয়েন কাইজু আক্রমণ করে পৃথিবীকে, যার আঘাতে পৃথিবী ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। এর মোকাবেলা করতে মানুষ আবিষ্কার করে জায়েগারস নামক মানুষ-নিয়ন্ত্রিত রোবট। রোবট নিয়ন্ত্রিত হয় দুজন পাইলট দিয়ে, যারা একে অপরের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত থাকে। সিনেমার মূলভাব মোটামুটি এই রকম হলেও এর গল্পের বিস্তৃতি ব্যাপক এবং অনেক নিপুণ হাতে তৈরি এর চিত্রনাট্য। যদি কেউ সিনেমাটি দেখার অনুভূতি এক কথায় প্রকাশ করতে বলেন তো যে শব্দটি দিয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে তা প্রকাশ হবে, তা হলো ‘বিশাল’। সিনেমা শুরুর ১০ মিনিটের ভেতর একটি বিষয় জানা যাবে, আপনি যদি রোবোটিক অ্যাকশন, মেটাল বেসিক্স ও অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স পছন্দ করেন, তবে এই সিনেমার বাকি সময়টুকুতে আপনাকে আর অন্য কোনো কাজে মন দেওয়া সম্ভব হবে না। আর তাই এই সিনেমাটির প্রচারণার সময়েই বলে দেওয়া হয়েছিল যাতে সময় নিয়ে দেখতে বসে। অনেকেই ‘প্যাসিফিক রিম’-এর ট্রেইলর দেখে এটিকে ‘ব্যাটলশিপ’ কিংবা ‘ট্রান্সফরমার’-এর মতো শুধুই আরেকটি অ্যাকশন সিনেমা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পরিচালক গুয়েলরেমো দেল তোরো অ্যাকশনের পাশাপাশি অনেক মানবিক অনুভূতির সম্বন্বয় ঘটিয়েছেন সিনেমার গল্পে। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, নিজেকে প্রমাণ না করতে পারার কষ্ট, এসবের পাশাপাশি হালকা রোমান্স ও কমেডিও খুঁজে পাবেন এই মুভিতে। মুভির প্রধান চরিত্র ‘রালেই বেকেট’-এর ভূমিকায় অভিনয় করা চার্লি হান্নাম তো এক সাক্ষাত্কারে বলেই বসেছেন, ‘এটি আসলে একটি প্রেমের গল্প, যেখানে সবই আছে।’ ছবির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাপানি অভিনেত্রী রিঙ্কো কিকুচি (মাকো মরি), ইদ্রিস এলবা (ইস্টাকের পেন্টাকস্ট), বার্ন গুরমান (ড. হেরমান গাটিলেব), চার্লি ডে (ড. নিউটন গেস্লার) প্রমুখ। বিশাল দৈত্যাকার কাইজু, বিশাল রোবট, বিশাল অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স, বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সবকিছু একটু বেশিই বিশাল। কিন্তু পরিচালক গুয়েলরেমো দেল তোরোরও মানেই কি তাই নয়। ছোটবেলা থেকেই জাপানি অ্যানিমেশন সিরিজের ভক্ত ম্যাক্সিকান এই পরিচালকের ট্রেডমার্কই তো ‘জায়ান্ট’ আর ‘মনস্টার’। ‘হেলবয়’ আর ‘প্যান্স ল্যাব্রিন্থ’-এর মতো ছবির পরিচালনাও যে করেছেন তিনিই। সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কেউই বড় কোনো তারকা না হওয়া সত্ত্বেও এই মুভির বাজেট ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার একটা বড় অংশ ব্যয় হয়েছে টেকনিক্যাল কাজে। কাইজুর অঙ্গসজ্জায় যেমন ছাপ রয়েছে জাপানি আর্টের তেমনি জাগারস তৈরিতে পুরোপুরি মেটালিক ছাপ রেখেছেন পরিচালক। প্রথম সারির তারকা না হওয়া সত্ত্বেও এটির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যথেষ্ট পরিপক্বতারই প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে অভিনেত্রী রিঙ্কো কিকুচির অসাধারণ অভিনয় সবার মন কাড়বে। অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে ক্যামেরার কাজ আর ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এতটাই চমত্কার যে সিনেমাটি থ্রিডিতে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকবেন দর্শক। গুয়েলরেমো দেল তোরো পরিচালিত আগের যে কোনো সিনেমার চেয়ে বক্স অফিসে ভালো শুরু করেছে ‘প্যাসিফিক রিম’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষ না হতেই প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার ঘরে তুলেছে এর প্রোডাকশন হাউজ। রটেন টমেটোর ৭২%, আর ওগউইর ৭.৯ রেটিং প্রমাণ করে সমলোচকদেরও ভালোই লেগেছে ছবিটি। সব মিলিয়ে সময় কাটানোর জন্য মন্দ নয় ‘প্যাসিফিক রিম’।