প্রায় ৩ হাজার ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব সংক্রান্ত বিরোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শালিসি পদ্ধতিতে (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর) আগ্রহ দেখাচ্ছে না মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো। বরং নিরপেক্ষ কোন আন্তর্জাতিক শালিসি মাধ্যমে তাদের আগ্রহ। তারা এডিআরের ফ্যাসিলিটেটরদের (বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তাকারী) প্রতি আস্থা আনতে পারছেন না। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন জানিয়েছেন, আদালতের বাইরে এডিআরের মাধ্যমেই কেবল এই ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বা অন্য কোন পদ্ধতিতে নয়। মঙ্গলবার মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আবার বৈঠক হবে।
সূত্র জানায়, তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি-জি) মোবাইল সেবার নিলাম নিয়েও বৈঠকে কথা হয়েছে। সম্প্রতি থ্রি-জির নিলামের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে অর্ধেক কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা এ বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত চাচ্ছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর। বৈঠক শেষে ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এডিআরের ফ্যাসিলিটেটর কারা হবেন বা এটি কী কাঠামোয় হবে তা আরো বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। এছাড়া থ্রি-জির নিলাম নিয়ে আমাদের কিছু বক্তব্য আছে। অর্থমন্ত্রী এনবিআর চেয়ারম্যানকে আমাদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমাধান করতে বলেছেন। বৃহস্পতিবারের (আজ) বৈঠকে আশাকরি একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারব।
সিম প্রতিস্থাপন (একই নম্বরে নতুন সিম) সংক্রান্ত আপত্তিতে দাবিকৃত এই অর্থ নিয়ে এনবিআরের সাথে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অবশেষে তা আদালতে গড়ায়। তবে এটি এখনো এনবিআরের এখতিয়ারভুক্ত থাকায় আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি বরং এনবিআরকে সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য সম্প্রতি তা আবার বৃহত্ করদাতা ইউনিটের (ভ্যাট) কমিশনারের কাছে পাঠান আদালত। গত এক সপ্তাহ আগে মোবাইল ফোন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠকে এডিআরে এই বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। গত বছর থেকে আদালতের বাইরে রাজস্ব সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে এ ব্যবস্থাটি চালু করে এনবিআর।
এনবিআর সূত্র জানায়, মূলত সিম পরিবর্তনের জন্য এনবিআর কোন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দাবি করার এখতিয়ার নেই। সিম অকেজো হওয়া বা ফোন চুরির কারণে মোবাইল ফোন গ্রাহককে অনেক সময় সিম প্রতিস্থাপন করতে হয়। কিন্তু কোন কোন কোম্পানির ক্ষেত্রে সিমের পরিবর্তনের পরিমাণ অস্বাভাবিক বলে এনবিআরের কাছে প্রতীয়মান হয়। এনবিআর মনে করে, সিম পরিবর্তন সাধারণত নতুন সিম বিক্রির এক থেকে দুই শতাংশ হওয়ার কথা। কিন্তু কোন কোন কোম্পানির ক্ষেত্রে তা নতুন সিম বিক্রিকেও ছাড়িয়ে গেছে। এসব অস্বাভাবিক পরিবর্তনের পরিসংখ্যান এনবিআর গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। কোম্পানিগুলোর কাছে ২ হাজার কোটি টাকা দাবি করে এনবিআর। যথাসময়ে এই অর্থ পরিশোধ না করায় পরবর্তীতে জরিমানা ও সুদসহ আরো ১ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে কোম্পানিগুলো আদালতে যায়।
