মানিলন্ডারিং রোধে চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হচ্ছে দুদক

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২১:৫১
অর্থ পাচার (মানিলন্ডারিং) রোধে রাষ্ট্রীয় ৪ বিভাগের সঙ্গে অনলাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বা এসোসিয়েশনের তথ্যভান্ডারে সরাসরি প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে দুদক। এরই মধ্যে ৭টি ব্যাংক পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন কানেকটিভিটি চালু করেছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে সব ব্যাংকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। অপরদিকে অবৈধ ব্যাংকিং, মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা, কুরিয়ারের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। অনলাইন কানেকটিভিটির মাধ্যমে দুদক যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সেগুলো হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আর পুরো কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে জিওএএমএল সফটওয়্যারের মাধ্যমে। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে দুুদক আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান জানান, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য মানিলন্ডারিং সেল গঠনসহ নানা উদ্যোগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। দুদক সূত্র থেকে জানা যায়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২(ব) ধারা অনুসারে অনলাইন কানেকটিভিটি কার্যকর হলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বাংলাদেশ (আইসিএবি), বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয় (রেজসকো) সহ আর্থিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্দেহজনক তথ্য-সংবলিত প্রতিবেদন নিয়মিত দুদকে পাঠাতে হবে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, দুদকের মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়ম-সংক্রান্ত ইউনিটের অধীনে বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ এ কানেকটিভিটির আওতাভুক্ত হয়ে কাজ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এ বিভাগের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে। তবে দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত ও অনুসন্ধান) জিয়াউদ্দিন আহমেদ দুদকের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন। পুরো বিষয় সমন্বয় করবেন দুদকের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। এ বিভাগের ডেস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দুদকের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী। এ ব্যাপারে দুদক মহাপরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, অবৈধ ব্যাংকিং ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।