কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই বাকি ছিল। নইলে আজ যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ঘোষিত দলবদল হচ্ছে না সেটা জানতে কারোরই বাকি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ক্লাবগুলোর দাবির মুখে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানালো, ২৫ জুলাইয়ে নির্ধারিত দলবদল আগস্টের শেষ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগস্টের ২৯ তারিখ থেকে ঘোষিত প্রিমিয়ার লিগ সম্পর্কে বলা হয়েছে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস-এর (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান ও বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুস বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি ২৯ জুলাইয়ে বোর্ড মিটিংয়ের পর প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ শুরু ও খেলোয়াড় নিয়োগের (দলবদল) নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে পারবো।’
এর আগে গত ৩ জুলাইয়ের বোর্ড সভার পর সিসিডিএম জানিয়েছিল ২৫ জুলাই হবে দলবদল। আর বাংলাদেশের দুটি বয়সভিত্তিক দল ও ‘এ’ দলের সফর শেষে আগস্টের শেষে ২৯ তারিখ থেকে শুরু হবে প্রিমিয়ার লিগ।
প্রিমিয়ার লিগ প্রকৃতপক্ষে মাঠে গড়ানোর কথা ছিল ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে। কিন্তু তারকা খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে না এই অজুহাতে ক্লাবগুলোর চাপে দফায় দফায় পেছাতে থাকে লিগ। এক পর্যায়ে ঢাকা লিগের আদিকাল থেকে চলে আসা উন্মুক্ত দলবদলের পদ্ধতি খেলোয়াড়দের গ্রেডিং ও রোটেশন ভিত্তিতে দলবদলের শর্তে লিগ খেলতে রাজি হয় ক্লাবগুলো। এর পদ্ধতিতে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পাওনা ঠিক করে দেয়া হবে এবং খেলোয়াড়রা লটারি অনুযায়ী বিভিন্ন ক্লাবে খেলবেন সমঝোতায় নয়!
এই পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলে ও লিগ মাঠে গড়ানোর দাবিতে দুই দফা আন্দোলনে নামে ক্রিকেটাররা। এক পর্যায়ে জাতীয় ক্রিকেটাররাসহ সব ক্রিকেটার লিগ বর্জনের হুমকিও দেন। কিন্তু এই পদ্ধতি শুধু এ বছরের জন্য এমন কথা দিয়ে বোর্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সর্বশেষ দলবদলের তারিখ ও লিগ শুরুর তারিখও ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু এই সময় আবার বর্ষা মৌসুম ও ঈদের আগে ব্যয় সমস্যা বলে প্রিমিয়ারের ১২টি ক্লাবের মধ্যে ১১টি মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয় তারা দলবদল করবে ঈদের পর। ক্লাবগুলো অবশ্য অক্টোবরে লিগ চেয়েছিল। কিন্তু অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের কারণে সে দাবি গ্রহণ করতে পারেনি সিসিডিএম।
