এখন শ্রাবণ মাস, বর্ষাকাল। একদা এসময় বেনাপোলসহ সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার গ্রামাঞ্চলের নিচু জমি,খাল-বিল আর ইছামতি নদীর ধারে ছোট ছোট পুকুরে জাতীয় শাপলা ফুলে ভরে যেত। লাল শাপলাই বলে দিতো এখন শ্রাবণ মাস। কিন্তু জাতীয় শাপলা ফুল আজ বিলুপ্তির পথে। এখন থেকে ৫/৭ বছর আগেও বর্ষা মৌসুমে উপজেলার গোগা বিল পাড়া, রুয়ের বিল, পটকামারীর বিলে ব্যাপকভাবে শাপলা দেখা যেত। কিন্তু এটা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সাধারণত বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত এসব নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতো প্রচুর শাপলা। তখন অনেকের খাদ্যের তালিকায়ও ছিলো শাপলা। খোলা মাঠ, বিল আর জলাশয়ে যেন মাথা উঁচু করে জানাতো আমি শাপলা। তখন ছোট্ ছোট্ শিশু, কিশোর-কিশোরীরা রঙ- বেরঙের বাহারী শাপলার রূপ দেখে ব্যাকুল হয়ে যেত। কিন্ত অধিক ফসলের আশায় জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রবীণদের মতে এই শাপলায় রয়েছে প্রচুর ভেষজ গুণাগুণ। অনেকের কাছে আবার এটি ভাল সবজি হিসাবেও সমাদৃত। অনেকে চুলকানি, পাঁচড়া এবং রক্ত আমাশয়ের জন্য লাল শাপলার সন্ধান করে।
