নির্বাচনমুখী হচ্ছেন পাপন

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২২:১৩
আদালত থেকে নির্বাচনের অনুমতি পাওয়ার খানিকক্ষণের মধ্যেই মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলেন এডহক কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাপন অনেকটা পরিষ্কারই করে দিলেন যে, তিনি বোর্ড সভাপতি পদে নিজেকে দেখতে চান। সেজন্য কী করবেন, পরিকল্পনা স্পষ্ট না করলেও বোর্ড সভাপতি হিসাবে দু-একটা ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা বেরিয়ে এলো সংবাদ সম্মেলনে। তবে এই সংবাদ সম্মেলন অনেক বেশি আলোচনায় রইল বোর্ড সভাপতির প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে অনেকবারই স্ববিরোধী কথাবার্তা বললেন। এর মধ্যেই বার বার পেছাতে পেছাতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগ প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমরা আয়োজনের চেষ্টা করছি; হলে হবে, না হলে নাই। আমি আগেও বলেছি, এইসব বিপিএল-প্রিমিয়ার লিগ জরুরি। তবে আমাকে এর চেয়েও বড় জিনিস দেখতে হয়। আপনাদের মনে হতে পারে, ওয়ার্ল্ড কাপ দরকার নেই, প্রিমিয়ার লিগ হতে হবে। কিন্তু আমার কাছে ওয়ার্ল্ড কাপ টপ মোস্ট প্রায়োরিটি পাচ্ছে। আশা করি সেপ্টেম্বরে। সব যখন হয়েছে, খামাকা প্রিমিয়ারটা বাদ যাবে কেন? কিন্তু তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, প্রিমিয়ার ডিভিশন বা যেকোনো লিগের চেয়ে আমার কাছে ওয়ার্ল্ড কাপ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রিমিয়ার লিগের কথা প্রসঙ্গক্রমে এলো। নইলে সংবাদ সম্মেলন জুড়ে আসলে রইল আদালতের নির্দেশনা, নির্বাচন, গঠনতন্ত্র সংশোধন, ক্লাবগুলোর দাপট, এসব প্রসঙ্গ। শুরুতেই পাপন পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে আদালতের এই নির্দেশনার গুরুত্বটা ব্যাখ্যা করলেন, ‘এডহক কমিটির মূল দায়িত্বই হল যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেয়া। কিন্তু সমস্যা ছিল গঠনতন্ত্র নিয়ে। আইসিসি এর আগেই পরিষ্কার বলে দিয়েছিল, এ বছরের জুন মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু যখনই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলাম আমরা তখনই একটা মামলা করা হল (নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায়)। আমরা দুটো ব্যাপারে সবাই খুব বিচলিত ছিলাম। আগামী বছর বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এর ভেন্যু নিয়েও কিছু সমস্যা আছে। এ অবস্থায় গঠনতন্ত্র নিয়েও আমরা আইসিসির শর্ত পূরণ করতে না পারলে তার একটা নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বকাপ আয়োজনের ওপর পড়ে কিনা, সে ভয়েও ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত যে, আজকে আপিল বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছেন, এনএসসির অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে আমরা এখন নির্বাচন করতে পারবো। আর বাধার সুযোগ নেই।’ যদিও এখানে একটা ‘কিন্তু’ রয়ে গেছে। আদালত বলে দিয়েছেন, এখন নির্বাচনে যে কমিটি আসবে তার বৈধতা নির্ভর করবে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের দেয়া চূড়ান্ত রায়ের ওপর। কিন্তু পাপন বিশ্বাস করছেন যে, চূড়ান্ত রায়ে ‘বিপরীত কিছু’ ঘটবে না। আর ঘটলেও তখনকার নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করতে চান তিনি। এখন পাপনের কথা অনুযায়ী তারা নির্বাচনের প্রস্তুতিই নিতে শুরু করবেন, ‘অতিশীঘ্রই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিব। ২৯ তারিখ বোর্ড মিটিং আছে, সেখানে ঠিক করব, কবে নির্বাচন দেয়া যায়। এ মাসের মধ্যেই আমরা চেষ্টা করব প্রক্রিয়াটা জেনে এনএসসিকে জানাবো, নির্বাচনের সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ এর মধ্যেই আলোচনায় নানাভাবে গঠনতন্ত্রের সংশোধনীর প্রশ্নগুলো উঠে এলো। ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলোকে সন্তুষ্ট করতেই সুপার লীগের দলগুলোকে ২টি করে কাউন্সিলরশিপ কিনা? গঠনতন্ত্রে সংশোধনের সময়ই কেন এসব বিষয় মাথায় নেয়া হল না? এর দায় কী বিসিবিও এড়াতে পারে কিনা? এরকম নানা প্রশ্ন এলো। পাপন কোনো প্রশ্নের জবাবে বললেন, ভারসাম্য তৈরি করতে বা আইসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী এসব ‘আমরা করেছি’। আবার বিব্রতকর প্রশ্নে সোজা বলে দিলেন, ‘সংশোধনী করেছে এনএসসি। আমরা একটা লাইনও লিখিনি।’