অবশেষে সিরিজ জয়ের শেষ হাসিটা এককভাবে হাসলো সফরকারী পাকিস্তানই। সেন্ট লুছিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চার উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল মিসবাহ-উল-হকের দল।
বুধবার টসে জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন দুই ওপেনার ডোয়াইন স্মিথ এবং জনসন চার্লস। ওপেনার জনসন চার্লসের ৪৩, মারলোন স্যামুয়েলসের ৪৫ এবং অধিনায়ক ডোয়াইন ব্রাভোর ৪৮ রানের উপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২৪২ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাক বোলারদের পক্ষে জুনাইদ খান ৪৮ রানে তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া মোহাম্মদ ইরফান এবং সাইদ আজমল প্রত্যেকে নেন দুটি করে উইকেট।
২৪৩ রানের লক্ষ্যকে তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানকে শুরুটা ভালোই এনে দেয় দুই ওপেনার নাসির জামশেদ এবং আহমেদ সেহজাদ। জামশেদ ২৩ রানে আউট হয়ে গেলেও আহমেদ সেহজাদ দলের হয়ে ইনিংস সেরা ৬৪ রান করেন।
এছাড়া অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের ৬৩ এবং ওমর আকমলের ৩৭ রান দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। বাকি কাজটুকু সারেন অবশ্য শহিদ আফ্রিদি। ছয় বল মোকাবিলা করে এক চার ও এক ছয়ে ১৩ রান করে ইনিংসের এক বল ও চার উইকেট হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানের অন্যতম এ সেরা অলরাউন্ডার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টিনো বেস্ট ৪৮ রানে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া জেসন হোল্ডার এবং ড্যারেল সামি প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট। মিসবাহ-উল-হকের ৬৩ রানের ইনিংসটা দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হলেও তার এ ইনিংসটাই দলকে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যার সুবাদে বুধবারের এ ম্যাচে সেরা খেলোয়ারের খেতাবটি জিতে নেন পাকিস্তানি এ অধিনায়ক। শুধু তাই নয় পুরো সিরিজে ভালো খেলার সুবাদে সিরিজ সেরার পুরস্কারটি নিজের করে নেন পাকিস্তানের ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
সিরিজের একটি ম্যাচ টাই হওয়ায় শেষ ম্যাচের জয় দিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিল সফরকারী পাকিস্তান। শনিবার এবং রবিবার সেন্ট ভিনসেন্টে এখন দুই দল দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে শেষ ম্যাচে নয় বরং প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই পাকিস্তানী ব্যাটিং অনেকটা তার উপরই নির্ভরশীল ছিল।
ম্যাচ শেষে ক্যারিবীয় অধিনায়ক নিজের স্বীকার করেছেন ঐ সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষেই গেছে এবং এটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তার মতে পাকিস্তানের ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় দুই দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য প্রমাণ করে না।
টপ অর্ডারে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের ৬৪ রানে পাকিস্তান অনেকটাই নিজেদের গুছিয়ে নেবার উপায় খুঁজে পায়। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইনিংসের মাঝপথে ক্যারিবীয়রা ম্যাচে ফিরে এসেছিল। পঞ্চম উইকেটে উমর আকমলকে সাথে নিয়ে মিসবাহ দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। এই একই জুটি তিনদিন আগে বৃষ্টি বিঘ্নিত চতুর্থ ম্যাচেও পাকিস্তানের জয়ে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি ৬৬ রান যোগ করার পরে বেস্টের বলে রোচের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৭ রানে বিদায় নেন। ৪৭.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ঐ সময় পাকিস্তান ২২৬ রান সংগ্রহ করেছিল। সেই সময় কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকলে সফরকারীদের জন্য চতুর্থ ম্যাচের মতই আবারো ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি অনুসরণের পথ সৃষ্টি হয়।
তবে ২০ মিনিটের মধ্যেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে পুনরায় ম্যাচ শুরু হয়। এরপর পাকিস্তান শুধুমাত্র মিসবাহ’র উইকেটটি হারালে শহিদ আফ্রিদি এবং সাইদ আজমল মিলে দলের জয়ের জন্য প্রয়োজনীর রান সংগ্রহ করেন। ম্যাচ শেষে মিসবাহ বলেছেন, ‘বছরের শুরুতে হতাশাজনক পারফরমেন্সের পরে আমাদের জন্য এই সিরিজ জয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্যাট হাতে আমার সময়ও খুব ভাল গেছে। কিন্তু পুরো সিরিজে বোলারদের প্রশংসা করতেই হয়। বোলাররাই আমাদের শক্তি।’
